কক্সবাজার, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঘোড়ার মাংস বিক্রির মামলায় আসামিদের অব্যাহতি, দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে তিরস্কার

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চৌধুরী হাটে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অপরাধে দায়ের করা মামলা থেকে মো. সানাউল্লাহ (৩২) ও মো. হামিদুর রহমান (৩৩) নামে দুই ব্যক্তিকে মামলা দেখে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
ঘোড়ার মাংস বিক্রির মামলায় আসামিদের অব্যাহতি,
দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে তিরস্কার

একই সাথে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করায় এজাহারকারী বোদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিপন কুমার বসাক ও মামলার তদন্তে গাফফিলতি পরিলক্ষিত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহেদুল ইসলামকে তিরস্কার করেছেন আদালত।

অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বোদা উপজেলার সহাকারী কমিশনার ভুমি ও বোদা উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মতিউর রহমান গত মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) এ আদেশ দেন।

এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের ২২ তারিখ জেলার বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের চৌধুরী হাটে বিকেলে জবাইকৃত ঘোড়ার মাথা, চামড়া ছিলানো চার টি পা, ঘোড়ার দেহ সর্বমোট ৩৫ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ করে বোদা থানা পুলিশ।

এসময় বোদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোদা উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে মাংসের অংশ বিশেষ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দিয়ে জব্দকৃত মাংস মাটিতে পুতে ফেলার নির্দেশ দেন। একই সাথে আসামিদের আটক করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এজাহার দায়ের শেষে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহেদুল ইসলাম আসামী মো, সানাউল্লাহ এবং মো, হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ ধারা মতে বোদা থানার চুড়ান্ত রিপোর্ট নং-২৩, ২০/০৭/২০২০ ইং দাখিল করে সেই পেনাল কোডের ২৭৩ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের অনুমতি প্রার্থনা করেন।

বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে পুলিশের চুড়ান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় দলে ডাক পেয়ে উচ্ছ্বসিত দুই প্রবাসী ফুটবলার

এদিকে আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘোড়ার জবেহ করে গোস্ত খাওয়ার অপরাধে এস আই লিপন কুমার বসাক আসামিদের বিরুদ্ধে ১৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(গ) তৎসহ পেনাল কোডের ২৭৩ ধারায় মামলা করে। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে বোদা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি শাহরিয়ার রহমান ও বোদা উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এজাহারকারীর সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিদের বৈধ ৩৫ কেজি ঘোড়ার গোস্ত জব্দ করেন।

পর্যালোচনায় উঠে আসে, আসামিদ্বয় মুসলিম। ইসলাম ধর্মমতে আসামিদ্বয় ঘোড়ার গোস্ত হালাল মনে খাওয়ার জন্য জবেহ করেছে। কোন হালাল জিনিস খাওয়া না খাওয়া রুচির ব্যাপার। মুসলিমদের হাদিস গ্রন্থ সহি বুখারীর (তাওহিদ প্রকাশনী) ৫৫১৯ ও ৫৫২০,মিশকাত শরীফের ৪১০৭ নং হাদীসে ঘোড়ার গোস্ত হালাল মর্মে উল্লেখ আছে। সেহেতু আসামিদ্বয় গোস্ত খাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘোড়া জবেহ করে কোন অন্যায় করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয় না। মুসলিম হিসেবে হালাল প্রাণী জবেহ করা ও খাওয়া তাদের ধর্মীয় অধিকার। কারো ধর্মীয় অধিকারে অহেতুক হস্তক্ষেপ করা আইন সঙ্গত নয়। তাছাড়া দেশের প্রচলিত আইনে ঘোড়ার গোস্ত খাওয় নিষেধ মর্মে কোথাও উল্লেখ নেই।

বাংলাদেশষ সরকারে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত বুখারি শরিফের ৫০০৯,৫০১০ ও ৫০১৪ নং হাদিসে ঘোড়ার গোস্ত হালাল ও বৈধ উল্লেখ আছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ আব্দুস সুবাহান জব্দকৃত ঘোড়ার গোস্ত কোনরূপ রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়াই ঘোড়ার গোস্তকে ক্ষতিকর মর্মে উল্লেখ করেছেন যা গ্রহণীয় নয়। উক্ত ঘোড়ার গোস্তের রসায়নিক পরীক্ষা করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব অবহেলা করেন।

এ ঘটনায় কর্মকর্তাগণের খামখেয়ালিপনা ও ভুলের কারণে আসামিদ্বয় এ মামলায় ৭ দিন হাজত বাস করেছন যা দুঃখজনক। ঘোড়ার গোস্ত খাওয়া হালাল সত্ত্বেও বিনা অপরাধে আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এজাহার দায়ের করায় এসআই লিপন কুমার বকাস ও মামলার তদন্তে গাফিলতি পরিলক্ষিত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহেদুল ইসলামকে দায়িত্ব পালনে সজাগ থাকার সতর্ক করে তিরস্কার করা হয়।

এদিকে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বোদা উপজেলার সহাকারী কমিশনার ভূমি ও বোদা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে ভবিষ্যতে আরো সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সাথে আসামিদ্বয়কে অত্র মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

পাঠকের মতামত: