কক্সবাজার, রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

জন্মের ১৯ বছর পর টিকটকে খুঁজে পেলেন যমজ বোনকে

জর্জিয়ার ১৯ বছর বয়সী তরুণী অ্যানো সারতানিয়া। পড়েন স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। একদিন বেশ চমকে ওঠার মতো ঘটনা ঘটে তার সঙ্গে।

বন্ধুর পাঠানো একটি টিকটক ভিডিও খুলতেই অ্যানোর রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ। দেখলেন সেখানে অবিকল তার মতো আরেকজনকে।

কিন্তু অনেক খুঁজেও টিকটকের ওই তরুণীর পরিচয় বের করতে পারছিলেন না অ্যানো। মেয়েটিকে খুঁজতে সাহায্য চাইলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে। অবশেষে পেলেন পরিচয়, কুঁজে পেলেন ফেইসবুক প্রোফাইলও।

জানা গেল, ওই তরুণী নাম অ্যামি খাভিশা। থাকেন জর্জিয়াতেই।

এরপরই অ্যামির সঙ্গে যোগাযোগ করেন অ্যানো। জানা গেল, চেহায়রা মিলের পাশাপাশি হেয়ারস্টাইল, গান, নাচ সবকিছু পছন্দের দিক দিয়েই দুজনের অনেক মিল। এমনকি জন্মসনদ অনুয়ায়ী তাদের দুজনেরই জন্মও একই হাসপাতালে। পার্থক্য কেবল জন্মতারিখে, সনদে ব্যবধান কয়েক সপ্তাহের।

সপ্তাহখানেক পর দেখা করেন দুজন। সামনাসামনি দেখা হওয়ার পর দুজনের মধ্যেই জন্ম নেয় হাজারো প্রশ্ন। যদি তারা যমজ বোন না-ই হবেন, তাহলে এত মিল কেন?

তখন সিদ্ধান্ত নিলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। জানতে চাইবেন এই রহস্যের কারণ।

দুজনের পরিবার থেকেই জানানো হলো, তাদের দত্তক নেওয়া হয়েছে। দুই নিঃসন্তান দম্পতি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ২০০২ সালে চিকিৎসকের কাছ থেকে দত্তক নিয়েছিলেন তাদের।

অ্যামি ও অ্যানোর পালক মায়েরা জানালেন, দত্তক নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল এই শিশুরা ‘অবাঞ্চিত’ হিসেবে জন্ম নিয়েছে। তাই তাদের দত্তক দিয়ে দিতে চায় পরিবার। সে কারণেই অর্থের বিনিময়ে তাদের দত্তক নেয় দুটি পরিবার।

এ ঘটনা জানতে পেরে জন্মদাত্রীকে খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেন দুই বোন। তবে তারা কেউই নিশ্চিত ছিলেন না যে, অর্থের বিনিময়ে শিশু সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়া পরিবারকে খোঁজা ঠিক হবে কিনা।

এসময় অ্যামি খাভিশা সন্ধান পেলেন এক ফেইসবুক গ্রুপের। সেখানে জর্জিয়ার জন্মের সময় অবৈধভাবে দত্তক নেওয়া পরিবারগুলো একে অন্যকে সাহায্য করে। ঐ গ্রুপেই পেলেন প্রকৃত মায়ের সন্ধান। ডিএনএ টেস্টে নিশ্চিত হলেন তাদের আসল মা সম্পর্কে, যিনি বাস করেন জার্মানিতে।

মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দুই বোন উড়াল দিলেন জার্মানি।

এ বিষয়ে অ্যামির আগ্রহ ছিল বেশি, মাকে দেখতে চাইছিলেন তিনি। অন্যদিকে ছিলেন সন্দিহান। নিজের মা তাকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিলেন, এটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল তার জন্য।

তবে অ্যানোর সন্দেহ ভুল প্রমাণ হয়। জানা যায়, তাদের জন্মের সময় মা আজা শোনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুদিন কোমায়ও ছিলেন। সুস্থ হবার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তার সন্তানেরা জন্মের কয়েকদিন পরেই মারা গিয়েছে।

সেই মৃত মেয়েদের সুস্থভাবে সামনে পেয়ে আপ্লুত মা আজা। তিনি বলেন, “অ্যামি ও অ্যানোর সাক্ষাৎ তার জীবনকে নতুন অর্থ দিয়েছে।”

মা ও মেয়েরা এখন আর একসঙ্গে থাকেন, তাদের পরিবার আলাদা। তবু তিনজনের যোগাযোগ রয়েছে, মা জানেন মেয়েরা বেঁচে আছে, সুস্থ আছে। মেয়েরাও জানেন তারা হাসপাতালের প্রতারণার শিকার, মা তাদের ভালোবাসেন।

পাঠকের মতামত: