কক্সবাজার, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন যারা

রাজধানীর একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক (সহকারী অধ্যাপক) মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবার শাহাবাগ শাহিন মঞ্জিলে বসবাস করেন। তার স্ত্রী তাসলিমা খাতুন ও মেয়ে তানিশার হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর আসে। জ্বর নিয়ে হাসপাতালে গেলে গত বৃহস্পতিবার দুজনের শরীরেই ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তারা হেল্থ এন্ড হোপ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘মা মেয়ে দুজনের অবস্থাই খারাপ ছিল। আজ (শনিবার) কিছুটা ভালো। ডাক্তার বলেছেন, কালকের দিকে বলা যাবে রোগীদের রিলিজ হবে কিনা। শুধু আমার পরিবারই নয়, আমাদের বিল্ডিংয়ে (শাহিন মঞ্জিল) আরো কয়েকজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

নওশাদ নায়ারের বয়স ৪ বছর। জ্বরসহ শরীরের অবস্থা অবনতি হলে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বর্তমানে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে নওশাদের চিকিৎসা চলছে।

উত্তর শাজাহানপুরের বাসিন্ধা নওশাদের বাবা ব্যাংকার মনসুর আলম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বৃহস্পতিবারে ভর্তি করেছি ছেলেকে। এখনও (শনিবার দুপুর) কোন উন্নতি নেই। ওর শরীরের পেশার একেবারেই কম। প্লাজমা স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। সকালে সেম্পল নিয়ে গেছে, রিপোর্ট এলে বলতে পারবো ব্লাড দিতে হবে কিনা।

চলতি মাসের শুরু থেকেই রাজধানীতে ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ডেঙ্গুতে সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষ করে নওশাদ, তানিশার মতো শিশুরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। নারী পুরুষ উভয় সমানভাবে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

রাজধানীর চারটি ৪টি হাসপাতালে ভর্তি থাকা ১৭ জন ডেঙ্গু রোগীর বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র উঠে আসে।

এই হাসপাতালগুলো হলো- ল্যাবএইড হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, হেল্ড এন্ড হোপ হাসপাতাল। রোগীরা বিগত কয়েকদিনে এসব হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ।

বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, এসব রোগীর মধ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্ধা ৮ জন, অর্থাৎ ৪৭ শতাংশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্ধা ৭ জন, অর্থাৎ ৪১ শতাংশ এবং ঢাকার বাইরের বাসিন্ধা ২জন, অর্থাৎ ১২ শতাংশ।

বিশ্লেষণ বলছে, ০ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ জন। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩ জন। ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২ জন। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২ জন। ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪ জন। ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২ জন।

ভর্তি রোগীদের বাসা ঠিকানা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিছিন্নভাবে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের সবত্রই রোগী পাওয়া যায়। এরমধ্যে রয়েছে- উত্তর শাজাহানপুর, হাজিপাড়া (হাতিরঝিল), বাসাবো, হাজারিবাগ, নিকেতন (গুলশান), সবুজবাগ, খিঁলগাও, রুপনগর হাউজিং (মিরপুর), আদাবর, মালিবাগ, বনানী, বসুন্ধরা, নাখালপাড়া ফার্মগেট ও শাহাবাগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমার্জেন্সী অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর মোট ৪১টি হাসপাতালে ৬৭৯জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরমধ্যে ১২টি সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ১৬৪ জন এবং ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে ৫১৫ জন ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমার্জেন্সী অপারেশনস সেন্টার আরো জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন অব্দি সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সংখ্যা দাঁড়িছে ২৪৬২ জন। এরমধ্যে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১৭৪৯ জন। বর্তমানে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭০৯ জন। এরমধ্যে ঢাকার বাইরে রয়েছেন ৩০ জন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ডেঙ্গু ও সন্দেহজনক ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির তথ্য রোগী হাসপাতালে ভর্তির দিনেই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। তবে তাৎক্ষনিকভাবে বিস্তারিত পরীক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না বিধায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে তারা ডেঙ্গু রোগী কিনা তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম জানায়, ছাড়প্রাপ্ত রোগীর অর্থ রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, তবে মৃত নয়। ডেঙ্গু সন্দেহে ৪টি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু নিশ্চিত হয়নি।

পাঠকের মতামত: