কক্সবাজার, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২

তৃতীয় কোনো দেশে যেতে চায় মুহিবুল্লাহ’র পরিবার

কক্সবাজার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের নিহত রোহিঙ্গা শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ-মিয়ানমার ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশে বসতি স্থাপন করতে আবেদন করেছেন। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তার পরিবারের ১১জন সদস্য জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সম্প্রতি সংশ্লিষ্টদের কাছে এই আবেদন করেন। তবে কোন দেশে যাচ্ছেন সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

মুহিবুল্লাহর পরিবার ছাড়াও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ নওখিমসহ সংগঠনের কিছু সদস্য এবং মুহিবের কিছু ঘনিষ্ঠ মোট ১১ পরিবার অন্যত্র যেতে এই প্রক্রিয়ায় আছেন। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তাজনিত কারণে মুহিবুল্লাহর পরিবারসহ তাদেরকে ক্যাম্প থেকে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে রাখা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রোববার বিকেলে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার আবেদনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও কুতুপালং ক্যাম্প থেকে মুহিবুল্লাহর পরিবারসহ কয়েকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত।

রেজওয়ান হায়াত বলেন, ‘আমাদের কাছে মুহিবুল্লাহ’র পরিবার কোনো আবেদন করেনি। তাছাড়া বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের বাহিরে। তবে যদি তারা কোনো দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যেতে চায়, সে-ক্ষেত্রে সেদেশের সঙ্গে সকল প্রক্রিয়া শেষে কাগজপত্রগুলো পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আমাদের কাছে আসবে। তারপরই বলা সম্ভব, তারা অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন কিনা।’

এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর নিজ কার্যালয়ে গুলিতে নিহত মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে তার ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ, স্ত্রী নাসিমা খাতুনসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের অপরিচিত নম্বর থেকে মোবাইলে টেক্সট ও ভয়েজ মেসেজ পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, এসব হুমকির ঘটনা কেন এবং কারা দিচ্ছে তা নিয়েও কাজ করছেন মামলাটির তদন্তকারীরা।

মুহিবুল্লাহর পরিবার ও এআরএসপিএইচ সংগঠনের নেতারা জানান, মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তারা সবাই ক্যাম্পে খুব ভয়ভীতির মধ্য ছিলেন। এরপর তারা নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করেন। এরপরও মুহিবুল্লাহ’র পরিবারের স্বজনসহ তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার তাদের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে অন্য একটি জায়গায় নেওয়া হয়েছে। যদিও এর আগে মুহিবুল্লাহ পরিবারসহ এআরএসপিএইচ সংগঠনের কিছু সদস্যসহ মোট ১১ পরিবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ছাড়া ছাড়া অন্য কোনো দেশে বসতি স্থাপন করতে চেয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করেন। আবেদনে তারা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার নাম উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এআরএসপিএইচ-এর অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ নওখিম। এ বিষয়ে এআরএসপিএইচ-এর সদস্য মোহাম্মদ নওখিম স্বীকার করলেও বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মুহিবুল্লাহর ভাগনে এবং এআরএসপিএইচের মুখপাত্র রশিদুল্লাহ বলেন, ‘মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তার স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা খুব ভয়ের মধ্য রয়েছেন। এছাড়া আমাদের সংগঠনের কিছু সদস্যর পরিবার ভয়ভীতির মধ্যে দিন পার করছেন। ফলে আমরা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দুই দফায় ১১ পরিবার থার্ড কান্ট্রি যেতে চেয়ে ত্রাণ শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করেছি। তার মধ্য আমরা তিন দেশের কথা উল্লেখ করেছি। এসব দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাছাড়া ইতিমধ্যে আমাদের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আমরা ক্যাম্প থেকে ভালো আছি।’

তৃতীয় কোনো দেশে যাবার বিষয়টি জানা নেই উল্লেখ করে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, ‘মুহিবুল্লাহ’র পরিবারসহ কয়েকজনকে ক্যাম্পের ভেতরে একটি সেন্টারে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি এমন-না যে, অনিরাপত্তার কারণে তাদের সরিয়ে রাখা হয়েছে। মূলত মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল থেকে তাদের সরিয়ে রাখা হয়। যেহেতু ‘ক্রাইম সিন’ এলাকায় লোকজন যাওয়া আসা করা নিষিদ্ধ। তাদের সেখানে আমরা পুর্ণ-নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি।’ সমকাল

পাঠকের মতামত: