কক্সবাজার, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

প্রাথমিক তথ্যে কক্সবাজারে ২৫৭০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে : ডিসি মামুনুর রশীদ

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী::

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে গত ২ দিনে কক্সবাজার জেলায় ২ হাজার ৫ শত ৭০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তথ্য ফোনে ফোনে সম্পূর্ণ প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত ফরমে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে লবণ, মাছ, কৃষিজ, ঘরবাড়ি, বেড়ীবাঁধ, পানেরবরজ, বনজ সহ সবকিছু আনা হবে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতি চুড়ান্ত নিরূপণ করা যাবে বলে ডিসি মোঃ মামুনুর রশীদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ আরো জানান, তিনি নিজে বৃহস্পতিবার ২৬ মে মাতারবাড়ী এলাকার ৪ টি ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্ট এবং কক্সবাজার শহরের জলমগ্ন পশ্চিমাংশ পরিদর্শন করেছেন। জেলার উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, মাতারবাড়ী, সেন্টমার্টিনে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধের বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারকে অবহিত করেছেন। ক্ষয়ক্ষতি দেখতে তিনি খুব শীঘ্র কক্সবাজার সফর করতে পারেন বলে ডিসি মোঃ মামুনুর রশীদ জানান। তিনি আরো বলেন, সমস্যাসমুহ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে কিভাবে বেড়িবাঁধ গুলো টেকসই ও স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা যায়, তা চিন্তা করা হবে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় তাঁর সাথে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন।

গত ২ দিনের সামুদ্রিক অতিরিক্ত উচ্চতার জোয়ারের পানিতে সেন্টমার্টিনের জেটি, পল্টুন, উত্তর সেন্টমার্টিনের কবরস্থান সহ কিছু এলাকা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, মাতারবাড়ী, কক্সবাজার সদরের উপকূলীয় এলাকাও প্লাবিত হয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাতারবাড়ী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেটি দ্রুততম সময়ে টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকাকে সুরক্ষা ও নিরাপদ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ জেলার উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, মাতারবাড়ী, সেন্টমার্টিনে এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে না যাওয়া লোকজনকে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ‘সিপিপি’র স্বেচ্ছাসেবকেরা সমন্বিতভাবে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সরকারের নির্দেশনা মানার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র সমুহে শুকনো খাবার, খিচুড়ি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহয়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সকল উপজেলায় পর্যাপ্ত নগদ অর্থ ও জিআর প্রেরণ করা হয়েছে। সেগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করাও শুরু হয়েছে। বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। সিবিএন

পাঠকের মতামত: