কক্সবাজার, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রের ভূমিকা সুস্পষ্ট নয় : আইনমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকসহ নানা ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রের ভূমিকা সুস্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রের যে ভূমিকা এটা সুস্পষ্ট নয়। এরকম একটা সন্দেহ আছে এবং তা অমূলক নয়। তবে কিছুটা হলেও একটু পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুরক্ষার ব্যাপারে; শুধু যে সাংবাদিকদের সুরক্ষা তা না। সর্বক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অবস্থানগত সুরক্ষা নিশ্চিতের ব্যাপারে তিনি সিরিয়াস।

শনিবার রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত ব্রডকাস্ট জার্নালিস্টদের অংশগ্রহণে বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেপি) চতুর্থ সম্প্রচার সম্মেলনে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল সাংবাদিকতার নীতি – সুরক্ষা-স্বাধীনতা। এদিন সকালে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলনের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রের ভূমিকা সুস্পষ্ট নয় : আইনমন্ত্রী
বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার এখন কানাডার পুলিশ
এরপর সূচনা বক্তব্য দেন বিজেমির চতুর্থ সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক মানস ঘোষ। উদ্বোধনী পর্ব পরিচালনা করেন সম্মেলন কমিটির সদস্য সচিব ও সম্মেলনের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংবাদিকতার নীতি-প্যানেল আলোচনা।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আলোচক হিসেবে ছিলেন বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক, সদস্য সচিব শাকিল আহমেদ, ট্রাস্টি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ফাহিম আমেন, জ্যেষ্ঠ ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট জহিরুল আলম, তালাত মামুন, প্রণব সাহা, জাহিদ নেওয়াজ খানসহ সম্প্রচার মাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। পর্ব দুটি পরিচালনা করেন বিজেসির ট্রাস্টি নূর সাফা জুলহাজ ও মুন্নী সাহা।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে যখন আইসিটি আইন হয় তখন ৫৭ ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। তখন অনেক প্রশ্ন ছিল, আপত্তি ছিল। আপত্তি থাকার পরেও সাইবার স্পেস এর নিয়ন্ত্রণের জায়গা থেকে সুরক্ষার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করা হয়। এই আইনের উদ্দেশ্য এটা ছিল না যে সাংবাদিক, সংবাদপত্র এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এটা নিঃসন্দেহে ইচ্ছা ছিল না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদ পত্রের স্বাধীনতার কথা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত আছে। তো আইন অবশ্যই মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে না। আর পরিপন্থি হলে সেই আইন বলবৎ হতে পারবে না। এই সরকার এটাও স্বীকার করেছে যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনকে মিস ইউজ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই আইনে মোট ৭ হাজার ১টা মামলা হয়েছে এবং এখন আছে ৫ হাজার ৯৯৫টি। এই মামলাগুলো ৯৫ ভাগই দেশের নাগরিকরাই করেছে। তবে রাজনীতিবীদরাই এর সাথে বেশি জড়িত রয়েছেন।

সম্প্রতি সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্টের ৪২ ধারা নিয়ে তিনি বলেন, এই ধারার একটি আইনি প্রয়োজন আছে। পুলিশের কাজ হচ্ছে কেথাও অপরাধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সেটা বন্ধ করা এবং কোনো অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পর আসল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা এবং বিচারে সোপর্দ করা। এমন এমন জায়গা আছে তাদের (পুলিশ) জরুরি ক্ষমতা থাকা দরকার। কিন্তু আমরা যদি এক্ষেত্রে তাদেরকে বেঁধে দেই তাহলে কিন্তু অপরাধীকে দমানো যাবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রচার মাধ্যমের সংবাদকর্মীদের কল্যাণ, দক্ষতা ও মান উন্নয়নের জন্য ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার- বিজেসি। প্রথমবারই ১১ শর বেশি সংবাদকর্মী বিজেসির সদস্যভুক্ত হন। বর্তমানে বিজেসির সদস্য সংখ্যা ১৭শ’ ছাড়িয়েছে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় নানান চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে বিজেসি আজ সংবাদকর্মীদের কাছে একটি নির্ভরতার জায়গা ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। করোনা মহামারিসহ যেকোনো দুর্যোগের সময় সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেসি। সেবার মানোন্নয়নে সর্বক্ষণ নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন ট্রাস্টিবৃন্দ।

পাঠকের মতামত: