কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

সাগরতীরের বিশাল প্যারাবন কাটা হচ্ছে কক্সবাজারে

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সাগরতীরের বিশাল প্যারাবন কেটে ফেলা হচ্ছে। সেখানে রিসোর্ট তৈরির জন্য এ কাজ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে লেক তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এস্কেভেটর। গত এক মাসে এস্কেভেটরের সাহায্যে অন্তত প্যারাবনের ২০ হাজার বাইন ও কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হয়েছে বলে পরিবেশবাদীরা দাবি করেছেন। গাছগাছালিসহ কাদা মাটি তুলে ফেলে বাঁধ তৈরির কাজও চলছে। সেই সঙ্গে প্যারাবনের বুক চিরে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা ও সীমানাদেয়াল।

সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে কিংশুক ফার্মস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান রামুর খুনিয়া পালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপের জাদুঘর এলাকার বিশাল প্যারাবনের গাছ কাটছে।

সম্প্রতি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, প্যারাবনটিতে রয়েছে জীববৈচিত্র্য ও পাখির আবাসস্থল। সাগরের তীরের প্যারাবনে জোয়ার-ভাটার পানিও ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের লোকজন খালের জোয়ার-ভাটাও বন্ধ করে দিয়েছে।

প্যারাবনের ভেতর রয়েছে অনেক বড় আকারের বাইন, কেওড়াসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ। গহিন প্যারাবনের ভেতর গিয়ে দেখা গেছে, এস্কেভেটর দিয়ে লেক খনন করা হচ্ছে। খননের সময় উপড়ে ফেলা হচ্ছে প্যারাবনের যাবতীয় গাছ ও মাটি। আনুমানিক ১০-১২ একরের প্যারাবন রয়েছে সেখানে।

এলাকার লোকজন জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাগরতীরের প্যারাবনের জমি কয়েক বছর আগে খতিয়ানভুক্ত করে পরিণত করে মালিকানাধীন জমিতে।

স্থানীয় পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’র নির্বাহী রাশেদুল মজিদ জানান, ‘জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও প্যারাবন ধ্বংস করে জীববৈচিত্র্য ও পাখির আবাসস্থল ধ্বংস করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তা-ও কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিমছড়ি-প্যাঁচার দ্বীপ সংলগ্ন এলাকার সাগরতীরের গাছগাছালি উজাড় করা মানেই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনার মতো ঘটনা।’

তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্যারাবনের ২০ হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় খুনিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শফিকুল ইসলাম সোহেল জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে প্যারাবন কাটা শুরু হলে তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিছুদিন ধরে আবার শুরু হয়েছে প্যারাবন কাটার কাজ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কিংশুক ফার্মস লিমিটেড কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্যারাবনের তদারকির দায়িত্বে থাকা মশিউল আলম লিটন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জমি আমার কম্পানির মালিকানাধীন। জমি নেওয়া হয়েছিল রিসোর্ট করার জন্য। কিন্তু এ মুহূর্তে রিসোর্ট করা যাচ্ছে না। তাই আপাতত মৎস্যঘের করা হচ্ছে।’

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘আমি গত মঙ্গলবার প্যারাবনটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। শুনেছি সেখানে আপনারা সাংবাদিকরা গিয়েছিলেন। তাই তারা এস্কেভেটর সরিয়ে নিয়েছে। তবে প্যারাবন কেটেছে এবং দেয়ালও দিয়েছে। যা পরিবেশ আইনে দণ্ডনীয় কাজের শামিল।’

পাঠকের মতামত: