কক্সবাজার, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

সেন্টমার্টিন থেকে এলো আড়াইশো, টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন গেলো তিন শতাধিক যাত্রী

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌ রুটে এক সপ্তাহ ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে আড়াইশ যাত্রী নিয়ে অন্তত ৪টি ট্রলার ভিড়েছে টেকনাফের সাবরাং মুন্ডার ডেইল নৌঘাটে। বঙ্গোপসাগরের বিকল্প চ্যানেল ব্যবহার করে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পর টেকনাফের সাবরাং এসে পৌছায় ট্রলারগুলে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২ টার দিকে সেন্টমার্টিন জেটি ঘাট থেকে ট্রলারগুলো টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়।

অন্যদিকে মিয়ানমারে গোলাগুলি অব্যাহত থাকায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে বসবাসকারী লোকজনদের জন্য জেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বহনকারী নৌযান যেতে পারেনি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, ট্রলারে যারা এসেছে তারা মূলত বিভিন্ন কাজে গিয়ে সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছিল। এদিকে একই ট্রলারে করে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আরো অন্তত তিনশো খানেক যাত্রী টেকনাফ থেকে রওনা দেয় সেন্টমার্টিন এর উদ্দ্যেশে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, গেল কয়েকদিন ধরে  সেন্টমার্টিন এসে আটকা পড়া এসব মানুষকে বিশেষ ব্যবস্থায় বিকল্প পথে ফেরানোর চেষ্টা চলছিল। অবশেষে আজ তারা ফিরতে পেরেছে।
তবে দ্বীপের মানুষের জন্য এখন খাদ্য সহায়তা খুবই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরের জলসীমায় নাফ নদীতে মর্টারশেল বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, এসময় বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠে শাহপরীর দ্বীপ, এবং ওপারের তুমুল সংঘর্ষে গোলাগুলির শব্দও শোনা যায়।

এদিকে বুধবার মধ্যরাতে হঠাৎ গোলাগুলি আর মর্টারশেলের শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠছিলো সীমান্তের টেকনাফ। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেই গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পায় স্থানীয়রা। এছাড়া নাফ নদীতে মিয়ানমারের একটি যুদ্ধ জাহাজ সকাল ৮টা পর্যন্ত অবস্থান করছিল বলেও জানান স্থানীয়রা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। দুপক্ষের মর্টার শেল ও ভারী গোলার বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। রাতভর ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন দুই দ্বীপের বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারের  মংডু শহরের হাসসুরাতা ও মেরুল্ল্যা গ্রামে ব্যাপক মর্টার শেলের শব্দ হচ্ছে।

পাঠকের মতামত: