কক্সবাজার, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

উখিয়ায় সোনালি ধানে কৃষকের খুশির মাঝেও শঙ্কা

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া::

উখিয়ার মাঠে মাঠে বোরো ধানগাছে সোনালি ফসলে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। অনেক কষ্টের ফসল নিয়ে কৃষকের মাঝে যেমন আনন্দ বিরাজ করছে, তেমনি এক ধরনের ধানের পোকা ও কালবৈশাখী ঝড় নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি। যদি ধান ঘরে তুলতে পারেন, তাহলে এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ছড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। উখিয়া রত্নাপালং ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ নুরুল আলম এই স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে উখিয়ায় এবার বোরো ধানের আবাদে শীর্ষে রয়েছে রাজা পালং ইউনিয়ন।
রাজাপালং ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, উপজেলার সবচেয়ে বেশি বোরো ধানের চাষ হয়েছে রাজা পালং ইউনিয়নে। রাজাপালং ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামের খাল-কুড়, মাঠঘাট, বিল এবং পতিত জায়গায় ধানগাছগুলো সমানতালে পাক ধরেছে এবং সোনালি ধানগুলো ঝুলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসনজিৎ তালুকদার জানিয়েছেন, উখিয়া উপজেলার এ বছর ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষক রয়েছেন ৪০ হাজার, ১৫ জন মাঠকর্মীর মধ্যে রয়েছেন ৮ জন।

উখিয়ার কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে যদি কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে না পড়ে, তাহলে এ বছর বোরো ধানের আবাদে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। মাঠে মাঠে বোরো ধানে হাওয়ায় দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। সর্বত্রই পাকা ধানের সুগন্ধে কৃষকের মন ব্যাকুল হয়ে আসছে। মাঠজুড়ে বোরো ধানের চোখ জুড়ানো দৃশ্য কৃষকদের আনন্দে উদ্বেলিত করেছে। সারাদেশে মহামারি করোনাভাইরাস, পাতাপোড়া রোগ ও গরম বাতাসে ব্যাপক ক্ষতি হলেও নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বোরো ধানের ফসল আবাদ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েছেন। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে সময় মতো ধানকাটা শ্রমিক না পেলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। শ্রমিক সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে আর ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে উপজেলায় বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

পাঠকের মতামত: