কক্সবাজার, বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

খরুলিয়া মোর্শেদ হত্যার ঘটনায় নিরহদের ফাঁসানোর অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

গত ২৬ই জুন বিকাল ৪ ঘটিকার সময় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকায় সামান্য কথা কাটাকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যার স্বীকার হন মোর্শেদ কামাল নামে এক যুবক। একই এলাকার মোহাম্মদ ফরিদের ছেলে কফিল উদ্দীন (১৪) এর হাতে ছুরিকাঘাতে মোর্শেদ কামাল আহত হয় পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মোর্শেদ কামাল একই এলাকার আবু ছৈয়দের পুত্র। উক্ত ঘটনায় ৩জন কে আসামী করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নিহত মোর্শেদ কামালের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং জিআর ৬৬/২১ ইং।

উক্ত মামলার ২নং আসামী নুরুল হক ও ৩নং আসামী সৈয়দুল হক। উক্ত আসামীদ্বয়ের পক্ষ হতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তাদের পরিবার। অদ্য ৩০ই জুন বিকাল ৫টার সময় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন নুরুল হকের পুত্র শাহ রিয়াজ আহমদ। এসময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন তার মা ও সৈয়দুল হকের স্ত্রী জান্নাতুল বকেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে শাহ রিয়াজ বলেন,

বিগত ২৬ শে জুন বিকাল ৪ টা দিকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কক্সবাজার জেলার, সদর উপজেলারঝিলংজা ইউনিয়নের অন্তর্গত খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকায় ছলিমের দোকানে খরুলিয়া কোনার পাড়া এলাকার মোহাম্মদ ফরিদের ছেলে কফিল উদ্দিন (১৪) ও বাজার পাড়া এলাকার আবু ছৈয়দের (রোহিঙ্গা) ছেলে মোর্শেদ কামাল (২৪) এর মধ্যে ইয়াবা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কফিল উদ্দিন ছুরি দিয়ে আঘাত করে মোর্শেদকে নির্মমভাবে হত্যা করে। যে হত্যাকাণ্ডে এলাবাসী সহ আমরা গভীরভাবে মর্মাহত এবং শোকাহত।

যেখানে আমার বাবা নুরুল হক এবং আমার চাচা সৈয়দুল হককে মিথ্যা ও অন্যায়ভাবে আসামী করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণরূপে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও স্বার্থ হাসিলের দূর্ভিসন্দি মূলকও শাঁক দিয়ে মাছ ঢাকার মত।

উল্লেখ্য, উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী মিজানুর রহমান পিতা মৃত রমিজ আহমেদ ও স্থানীয় দোকানদার ছলিমের ছেলে মুফিদুল্লাহ, মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে প্রিন্টও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাক্ষ্য প্রদান করেন। এবং এই প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর ছাপানো হয় যা আমাদের হাতে রয়েছে।

আমার বাবা নুরুল হক এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা সদস্যদের মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে উক্ত বিদ্যালয়ে কর্মচারী হিসেবে সততা ও নিষ্টার সাথে অদ্য বিদি কর্মরত আছেন। তিনি এবং আমাদের পরিবারের কোনো সদস্যই দেশ ও সমাজ বিরুধী কোন কাজে জড়িত নাই এবং ছিলনা।

নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যাকারী কফিল উদ্দিনের সাথে আমার পরিবারের পূর্ব থেকে যোগাযোগ রয়েছে এবং আমার বাবা আর চাচার নির্দেশে মোর্শেদকে হত্যা করা হয়েছে।
তাদের দাবির প্রেক্ষিতে আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই যে, হত্যাকারী কফিল তো দূরের কথা, তার পরিবারের কোনো সদস্যদের সাথেও আমার পরিবারের কারো সামনাসামনি এবং মোবাইল ফোনে কখনো কোনো প্রকার যোগাযোগ হয় নি। হত্যাকারী কফিল উদ্দিনের সাথে আমাদের পরিবারের কোনো সদস্যের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ সাধিত হয়েছে কিনা তা প্রশাসন চাইলে তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহার করে উদঘাটন করতে পারেন।

প্রসঙ্গত, নিহত মোর্শেদ কামাল সম্পর্কে আমার ফুফাতো ভাই হয়। অর্থাৎ আমার বাবার চাচাতো বোনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে নিহতের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও তাদের সাথে আমাদের কোনো প্রকার শত্রুতার সম্পর্ক ছিল না। যার উদাহরণ আমরা একই ভিটায় সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করতেছি। উক্ত জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয় তাদের সাথে আমাদের পরিবারের সাথে কোন অপ্রীতিকর ঘটনাও নি। বিগত ২৬ তারিখের হত্যাকান্ডের জেরে এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের ইন্দনে নিহতের পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের জমি দখল এবং আমার বাবা চাচা এবং আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে মান মর্যাদাহানী এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিসাধন করার উদ্দেশ্যে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, নিহতের পিতা আবু ছৈয়দ একজন রোহিঙ্গা এবং দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ব্যাবসার সাথে সম্পৃক্ত। এ নিয়ে তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। যার মামলা নাম্বার ১০৮/২০২০, বাকলিয়া থানা, চট্টগ্রাম ।

সম্মানিত সাংবাদিক ভাইগণ, আমার বাবা এবং চাচা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কোনোভাবেই জড়িত নন। তাছাড়া আমার চাচা সৈয়দুল হক দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন। গত বছর লকডাউনের কারনে আর ফিরে যেতে পারেন নি। অতএব আপনাদের মাধ্যমে আমি মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল অপরাধীকে খুঁজে বের করে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হোক এবং নিরপরাধ আমার বাবা নুরুল হক এবং চাচা সৈয়দুল হককে উক্ত মিথ্যা মামলা থেকে অব্যহতি প্রদান করা হোক।

পাঠকের মতামত: