কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, ২০২৫ সালে চূড়ান্ত

বইয়ের সংখ্যার সঙ্গে পড়ার চাপ কমিয়ে আনন্দময় পরিবেশে সহজে শিক্ষার্থীদের শেখাতে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুমোদন করেছে সরকার। আগামী বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ১০০টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-মূলকভাবে এই শিক্ষাক্রম শুরু হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না। থাকছে না পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা। নবম-দশম শ্রেণিতে থাকবে না কোনো বিভাগের বিভাজন। শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পরীক্ষা হবে, তার ভিত্তিতে দেওয়া হবে এইচএসসির ফল।

জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখা গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রূপরেখাটি অনুমোদন করেছেন বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

দীপু মনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এই রূপরেখা করা হয়েছে। এর আগে সব শিক্ষাক্রমই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জন্য আলাদা আলাদা ছিল। একজন শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক শেষ করে মাধ্যমিকে যাচ্ছে। এ জন্য এক স্তর থেকে আরেক স্তরে যাওয়াটা যেন খুব মসৃণ হয়, সহজ হয়, মাঝে যেন ছেদ না পড়ে, এক স্তর থেকে অন্য স্তরে গিয়ে যেন খাপ খাওয়াতে কোনো সমস্যা না হয়, সেসব বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এ জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বসে এই রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পুরো শিক্ষাক্রম হবে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক এবং পড়াশোনা হবে আনন্দময়। বিষয়বস্তু ও পাঠ্যপুস্তকের বোঝা ও চাপ কমানো হবে। গভীর শিখনে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মুখস্থ নির্ভরতার বিষয়টি যেন না থাকে। এর পরিবর্তে অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমভিত্তিক শেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশে খেলাখুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে পাঠদান দেওয়া হবে।’

নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষেই যেন অধিকাংশ পড়া শেষ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এরপর শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো সময় কাটানোর সুযোগ যেন পায়, বাড়ি ফিরেই যেন হোমওয়ার্কের পেছনে ছুটতে না হয়। পড়াশোনার বাইরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বা অন্যান্য বিষয়ের সুযোগ কমে গেছে, এটা যেন না হয়। জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।’

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নবম শ্রেণিতে আর বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থাকবে না। নবম ও দশম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলকভাবে ১০টি করে বিষয় পড়তে হবে। কোন স্তরে শিখন সময় কতটা হবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। পরীক্ষা নিয়ে যে মূল্যায়ন করা হয়, সেই সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন পর্যায়ে কতটা সামষ্টিক ও কতটা ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে হবে বাস্তবায়ন
আগামী বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের এক শটি করে প্রতিষ্ঠানের প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাইলটিং হিসেবে নতুন রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে। ছয় মাস পাইলটিং শেষে ২০২৩ সাল থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে। ২০২৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণি এবং ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে এই শিক্ষাক্রম শুরু হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে পুরো শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে রূপরেখাটি অনুমোদন দিয়েছেন। ২০২১ সালে এই শিক্ষাক্রম পাইলটিংয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

যেভাবে হবে মূল্যায়ন
প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে কোনো পরীক্ষা না নিয়ে শিখনকালীন ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞানে ৬০ ভাগ শিখনকালীন এবং ৪০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা নিয়ে) হবে। অন্য বিষয়ে হবে শুধু ধারাবাহিক মূল্যায়ন।

ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে ৬০ ভাগ শিখনকালীন এবং ৪০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। ষষ্ঠ-সপ্তমের অন্য বিষয়গুলোতে শতভাগ মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন। নবম-দশম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞানে ৫০ ভাগ শিখনকালীন ও ৫০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। এই দুই শ্রেণির অন্য বিষয়গুলোতে শতভাগ শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দশম শ্রেণি শেষে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির আলোকে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখন নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। অর্থাৎ দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা হবে। একাদশ ও দ্বাদশের আবশ্যিক বিষয়ে ৩০ ভাগ শিখনকালীন আর ৭০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। একাদশ-দ্বাদশে প্রায়োগিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ে শুধু শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপর প্রতি বর্ষে একটি করে পরীক্ষা হবে। একাদশ ও দ্বাদশের ফলাফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা আলাদা করে আর না হলে এই দুই শ্রেণিতে এখনকার মতো করে সনদ দেওয়া হবে কি না, এ প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শেষে একটা, অষ্টম শ্রেণি শেষে আরেকটা সনদ দেওয়া হতে পারে। এসব শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিতে হবে এমন না। স্কুলের পড়া শেষ করলেই তো সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। একটা স্তর শেষ করার পর সনদ দেওয়া হতে পারে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পঞ্চম ও অষ্টমে শুধু ক্লাসরু

পাঠকের মতামত: