কক্সবাজার, রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

গোপনে বিয়ে, ৬ষ্ঠ স্ত্রীর সাথে দেখা করতে গিয়ে খেলেন গণধোলাই

ভারতের পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানা এলাকার সন্তোষ দলু (৩৪)। পরপর ছয়টি বিয়ে করে একের পর এক সন্তানের বাবা হয়েছেন তিনি। ভালোই চলছিল সব। কিন্তু পঞ্চম আর ষষ্ঠ বিয়েটি পাশাপাশি দুটি গ্রামে করতে গিয়ে ধরা খেলেন গুণধর যুবক।

তার এই কুকীর্তি শেষমেশ ফাঁস হয়ে গেল। তাকে ধরে ব্যাপক গণধোলাই দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপর তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে।যুবককে জেরা করে তার আগেকার সব বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে খুঁটিনাটি জানতে চেষ্টা করছে পুলিশ।

জানা যায়, হায়দ্রাবাদের ফুল দিয়ে ডেকরেটিংয়ের কাজ করতেন দাসপুরের গদাইপুরের বাসিন্দা সন্তোষ দলুই ওরফে সন্তু। সেখানে প্রথমে এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। এই বিয়ের কথা কেউ জানত না। এরপর বছর পাঁচেক আগে নিজের বাড়ি ফিরে সেখানকার এক নারীকে বিয়ে করে সন্তোষ। তাদের এক সন্তানও আছে। এরপর মহেশপুর গ্রামের কাজল দলুই নামে একজনের সঙ্গে বিয়ে হয় সন্তোষের। কাজল ও সন্তোষেরও তিন বছরের এক সন্তান আছে। এখানেই শেষ নয় সন্তোষের কুকীর্তি। দেড় বছর আগে মহেশপুরের ঠিক পাশের কলরা গ্রামের রিংকু মালকে বিয়ে করেন। রিংকুর এক সন্তানের বাবা সন্তোষ। তবে এটাই যে তার ছয় নম্বর বিয়ে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ।

শুক্রবার রাতে কলরা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে বিপত্তিটা ঘটে। কলরা ও মহেশপুর গ্রামের মাঝের রাস্তায় কয়েকজন যুবক কথাবার্তা বলছিল। তাদের চোখে পড়ে সন্তোষ কলরা গ্রামের দিকে যাচ্ছে। মহেশপুর গ্রামে পরিচিতরা তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কোথায় যাচ্ছেন? এতজন লোকের হাতে ধরা পড়ে সন্তোষ আর বিষয়টিকে সামলাতে পারেননি। একদিকে মহেশপুরের লোকজন তাকে ‘জামাই’ বলছেন, অপরদিকে কলরা গ্রামের বাসিন্দাদেরও একই দাবি। দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক এবং লাগাতার জেরার মুখে পড়ে সন্তোষ সত্যিটা প্রকাশ করেন। জানান যে, কলরা গ্রামের রিংকু মাল আসলে তার ষষ্ঠ স্ত্রী। আর মহেশপুরের কাজল পঞ্চম।

এরপরই দুই পরিবারের কাছে গুণধর জামাই সম্পর্কে আসল খবর পৌঁছায়। তারা ছুটে যান। তবে ততক্ষণে উত্তেজিত জনতার গণপ্রহারের শিকার হয় সন্তোষ। একসঙ্গে ছয়জন স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করার শাস্তি হিসেবে তাকে বেধড়ক মারধরের পর দাসপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সন্তোষকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন পঞ্চম স্ত্রী কাজলের বাবা অনিল দলুই।

পাঠকের মতামত: