কক্সবাজার, সোমবার, ২১ জুন ২০২১

কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের রমরমা ফার্মেসী বানিজ্য

রফিক উদ্দিন বাবুল,উখিয়া।
মিয়ানমারের বাস্তুচূত রোহিঙ্গাদের সর্বাপেক্ষা বড় ধরনের আশ্রয় স্থল উখিয়ার
কুতুপালং ক্যাম্পের আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে রকমারি
ফার্মেসী বানিজ্য। এসব ফার্মেসী বিক্রেতা, চিকিৎসক, মালিক উভয় রোহিঙ্গা। এদের
কাছ থেকে প্রশাসনের একটি সংস্থা মাসিক চুক্তিতে মাসোহারা আদায় করার ফলে এরা
ব্যাপরো চিকিৎসা বানিজ্য চালিয়ে গেলেও দেখার বা বলার কেউ নেই। কুতুপালং ক্যাম্পে
অত্যাধুনিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হোপ ফাউন্ডেশন দাবি করছেন, রোহিঙ্গারা চিকিৎসা
সেবা দেওয়ার কারনে ও তারা মেয়াদ উত্তর্ীন ঔষুদ বিক্রির ফলে অশিক্ষায় কুশিক্ষায় জর্জরিত
রোহিঙ্গারা শারীরিক দিক দিয়ে আরও অবনতি হচ্ছে।
কুতুপালং স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিকে চিকিৎসক ডাক্তার অজিত বড়–য়া জানান,
অধিকাংশ রোহিঙ্গা তাদের অভিযোগ করে বলেছেন, রোহিঙ্গা চিকিৎসকের কাছে
চিকিৎসা নিয়ে এবং তাদের ঔষুধ সেবন করে রোগ নিরাময় তো হয়নি উপরোন্ত
বিভিন্ন রোগ বালাইয়ে দীর্ঘ দিন তাকে কষ্ট পেতে হয়েছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা
ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সেক্রেটারী মোহাম্মদ নুর জানান, এখানে এসে যেসব
রোহিঙ্গারা চিকিৎসার নামে ফার্মেসী দিয়ে বসেছে মুলত তারা চিকিৎসা সেবা
সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। সে মিয়ানমার থাকাকালীন প্রত্যক্ষভাবে পরিক্ষিত বেশ কয়েকজন
চিকিৎসকের নাম বলে সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গা চিকিৎসকেরা রোগীদের পাওয়া
মাত্র তার অসুখের বিবরন না শুনে একটা ইনজেকশন পুশ করে দেয়। এটা কি ধরনের
ইনজেকশন জানতে চাওয়া হলে মো: নুর জানান, এটা ভিটামিন জাতীয় একটি
ইনজেকমন যা শরীরে কোন ক্ষতি করে না। অথচ রোহিঙ্গা রোগীর কাছে এটা বড় একটি
পাওনা বলে তাদের ধারনা। এতে টাকার অংকও বেড়ে যায়। ইনজেকশনের পাশাপাশি কয়েকটি
নাফা ও প্যারাসিটামল ছাড়াও ভিটামিন জাতীয় কয়েকটি ট্যাবলেট দিয়েও চিকিৎসা শেষ
করে। এ চিকিৎসা বাবদ টাকা দাবী করা হয় ৮শ থেকে হাজার টাকা ।
১৯৮২ সালে কুতুপালং এসে আশ্রয় নেয়া ডাক্তার জাফল আলম প্রকাশ ডিপো জাফর
রোহিঙ্গা চিকিৎসক সম্পর্কে বলেন, কুতুপালং এ ১০/১২টি ক্যাম্প মিলে প্রায় ৩/৪ লক্ষ
রোহিঙ্গার ফাঁকে ফঁাকে প্রায় হাজারেরও অধিক ফার্মেসী খুলে বসেছে অনভিজ্ঞ
রোহিঙ্গারা। তিনি শুনেছেন প্রতি ফার্মেসী থেকে মাসে হাজার টাকা মাসোহারা
আদায় করেন সিনেটারী ইন্সপেকটর নামের একজন লোক। কি ধরনের লোক? তার নাম কি ?
জানতে চাওয়া হলে তা জানাতে না পারলেও ডিপো জাফর বললেন, সে এখান থেকে
ফার্মাসিস ট্রেনিং নিয়েছেন। তারপরও ফার্মেসী খুলে বসেননি। কেন ফার্মেসী
দেওয়া হয়নি জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, এখানে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের
কারনে রোহিঙ্গাদের একটি বড় ধরনের বদনামের সৃষ্টি হয়েছে। যা প্রশাসনের দৃষ্টিতে
শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে তিনি মনে করে আপাদত চিকিৎসা সেবা থেকে বিরত রয়েছেন।
তৎকালীন নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম কুতুপালং ক্যাম্পে বেশ কয়েকবার
হানা দিয়ে প্রায় ১৮/২০টি ফার্মেসী সিলগালা করে দিয়েছে। আটক করে জরিমানা
আদায় করেছেন ৫জন ফার্মেসীর মালিকের কাছ থেকে এবং তাদের কাছ থেকে আর কোন
দিন চিকিৎসা সেবা না দেওয়ার জন্য মোচলেকা নিয়েছেন। এ সময় ডা: ফয়সাল নামের
একজন রোহিঙ্গা চিকিৎসককে ৭ মাসের সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরনের পর ঔষধের
দোকান একটু কমলেও বর্তমানে আনাচে কানাচে অসংখ্য ফার্মেসী গজে উঠেছে বলে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান জানান, রোহিঙ্গা
ক্যাম্পে ফার্মেসী বন্ধের নির্দেশ দেওয়া স্বত্তেও যারা এখনও পর্যন্ত ফার্মেসী ব্যবসায়
জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত: