কক্সবাজার, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ধুলোয় আচ্ছন্ন উখিয়া-টেকনাফ সড়ক:স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

কক্সবাজারের মধ্য সবচেয়ে বেশি ধুলাবালিময় পুরো উখিয়া। গত দুই বছরে এখানে বায়ুদূষণ জনিত নানা রোগ ব্যাধিতে লোকজন অধিক হারে আক্রান্ত হচ্ছে। জাতীয় মহাসড়কের উখিয়া অংশে সাধারণ মানুষজন,যানবাহন চলাচল কঠিন অবস্হার মুখে পড়েছে।

জাতীয় মহাসড়ক -১ এর অংশ কক্সবাজার – টেকনাফ সড়ক। দীর্ঘ ৭৯ কিমি এর এ সড়কে উখিয়া উপজেলার অংশ প্রায় ২৭ কিমি। এ সড়ক দিয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পূর্বে এত বেশি যানবাহন চলাচল করতো না। ২০১৭ সালে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার প্রবেশ ঘটে। সুনামির ন্যায় আসা মানব স্রোতকে বাংলাদেশ এক প্রকার অনাকাঙ্খিত ভাবে আশ্রয় দেয়।

২০১৭ সালের আগে কক্সবাজার – টেকনাফ সড়কে যেখানে ঘন্টায় কয়েক শত যানবাহন চলাচল করতো। সেই সড়ক দিয়ে রোহিঙ্গা আসার পর মিনিটে কয়েক শত হাল্কা থেকে অধিক ভারী যানবাহন যাতায়াত বৃদ্ধি ঘটে। সারাদেশে থেকে উখিয়া পর্যন্ত ১৬ – ২০ চাকার ভারী যানবাহন, লরি চলাচল করছে ব্যাপক হারে। ১৮ ফুট প্রস্হের এ সড়কের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত।

অথচ এ দু’বছরে এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করছে ৫০ – ৬০ টনের বেশি পণ্যবাহী যানবাহন। স্বভাবতই সরু সড়কটির সর্বত্র ভেঙ্গে চুরমার হয়ে পড়ে। এ সড়কটি ক্রমেই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়। প্রতিদিন এ জাতীয় মহাসড়কের উখিয়া অংশে কোন না কোন যানবাহন ও সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। গত দুই বছরে এ সড়কে অর্ধশতাধিক দূর্ঘটনায় কয়েকশত মানুষ হতাহতের শিকার হয়েছে। ভাঙ্গা চোরা সড়কের সর্বত্র ধুলাবালি।

এছাড়াও মোট ৩৪ টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের মধ্য ২১ টি ক্যাম্পের অবস্থান উখিয়ায়। এসব ক্যাম্প স্হাপনে উদ্বাস্তুদের শেড,রাস্তা,সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার অফিস সহ অন্যান্য স্হাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক হারে পাহাড় কাটা,মাটি কাটা – ভরাট প্রভৃতি কাজে নানাবিধ পরিবেশ ও প্রতিবেশগত দূষণের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে ও তা অব্যাহত রয়েছে।

উখিয়ার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার। পক্ষান্তরে উখিয়ায় ২১ আশ্রয় ক্যাম্পে উদ্বাস্তু আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ। সবকিছু মিলিয়ে উখিয়ায় অন্যান্য পরিবেশগত দূষণের সাথে বায়ু শব্দ দূষণের মাত্রা অধিক হারে বাড়ছে।উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মেরাজ হোসেন চয়ন বলেন,গত দুই বছরে শ্বাস কষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।পাশাপাশি বায়ু দূষণ জনিত কারণে সর্দি,কাশি,হাঁচি সহ নানা রোহ ব্যাধির উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। যা জন স্বাস্থ্যের জন্য সমূহ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি জানান।

এদিকে বিবিসি এক খবরে জানায়, বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। সহজ করে বললে ভারতের দিল্লি, বাংলাদেশের ঢাকা ও আফগানিস্তানের কাবুল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। আর যদি দেশের কথা বলা হয় তাহলে বিশ্বে বায়ুদূষণে বাংলাদেশ প্রথম। এরপর অবস্থান পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক দূষণ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারভিজুয়্যাল এসব তথ্য জানায়। বুধবার (৬ নভেম্বর) খবরটি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ২০১৮ সালের দূষণের মাত্রা নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৩০টি শহরের মধ্যে ২২টি ভারতের। বাকি ৮টি শহর পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চীনে অবস্থিত। বেইজিং এই তালিকার ১২২ নম্বরে।

দিল্লির বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে সূক্ষ্ম বস্তুকণার (পার্টিকেল ম্যাটার বা পিএম-২.৫) পরিমাণ ১১৩.৫, ঢাকায় ৯৭.১ ও কাবুলে ৬১.৮। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই হুমকিস্বরূপ। কারণ, প্রতি ঘনমিটারে পিএমের স্বাভাবিক মাত্রা ১ থেকে ১২ পর্যন্ত।

পাঠকের মতামত: