কক্সবাজার, রোববার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০

তিনি ছিলেন দুর্গম পথের দুঃসাহসী যাত্রী, প্রেমতৃষ্ণার্ত মানুষ

দুর্গম পথের দুঃসাহসী যাত্রী তিনি। গভীর নিমগ্ন এক স্রষ্টা। ভালোবেসেছিলেন, মানুষ আর তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। তবে, এর বাইরেও তিনি ছিলেন প্রেম তৃষ্ণার্ত এক মানুষ। কুমিল্লার দৌলতপুরে তিনি বাঁধা পড়েছিলেন নার্গিসের প্রেমে।

ছুটে চলছেন পুবের পথে। সূর্যোদয়ের পথে। ধানে ভরা, গানে ভরা কুমিল্লার দৌলতপুরের পথে। কে এই রাজকুমার? চির চঞ্চল,বাণীর দুলাল, নবারুনের তারুণ্যের ভরা যুদ্ধ প্রত্যাগত সৈনিক তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
কবি আসবেন সাজ সাজ রব তখন দৌলতপুরে, তৈরি হয়েছে তোরণ। হাজারো মানুষের ঢল, একবার যদি কবির দেখা পাওয়া যায়।

তবে, এসব কিছু ছাপিয়ে কবির হৃদয় দুয়ারে মানসবধূর পদধ্বনি। অকস্মাৎ সেই মুহুর্ত সমাগত। দেখা হলো সেই কাঙ্খিত রমনী সৈয়দার সাথে। গানও হলো। এরপর আলাপ পরিচয়। প্রেমভিখারী কবি তখন প্রেম উন্মুখ। প্রিয়ার নতুন নাম দিলেন তিনি নার্গিস। শুরু হলো সুগভীর এক প্রেমবন্ধন। নার্গিসের পরিবারের সম্মতি পেতে দেরি হয়নি। কবির অদম্য উৎসাহে বিয়ের দিন তারিখ পাকাপাকি হলো, ১৭ জুন, ১৯২৯, শুক্রবার।
সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনে বিয়ে হলো। বাসরঘরে নার্গিস তার হৃদয়রাজ্যের রাজাধিরাজ এক দীনহীন কবির অপেক্ষায়। কবি বাসরঘরেই নববধূকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন, চলো সই আমরা কলকাতা যাই। নার্গিসের উত্তর ছিল আরো কয়দিন পরেই যাবো। শুনলেন না কবি। সূর্য ওঠার আগেই দুরন্ত কবি চললেন কলকাতার পথে।

এরপর কেবলই শূন্যতা, কেবলই হাহাকার। কবি নজরুলের প্রেম, বেদনা ও বৈদগ্ধতা উপলব্ধির সীমা নির্ধারণ করা যায় তার প্রকাশের গভীরতায়। নজরুলের ধারণা হয়েছে তার বধূ প্রিয়া এক মিথ্যাময়ী। আর তাই অনন্ত দূরের নক্ষত্র হয়ে থেকেছেন নার্গিসের কাছ থেকে। এরপরও সংসার হয়েছে নজরুলের, তবে অনাদী প্রেমতৃষ্ণার সমাপ্তি কি হয়েছে?

পাঠকের মতামত: