কক্সবাজার, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ১টি সেলোমেশিন ও পাইপ গুড়িয়ে ধ্বংস

এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :
পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদী থেকে মেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকালে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ১টি সেলোমেশিন ও বিপুল পরিমাণ পাইপ গুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযানে যাওয়া টের পেয়ে বালু উত্তোলনে জড়িতরা পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১০সেপ্টম্বর) দুপুরে মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন বালু পয়েন্টে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন এ অভিযান পরিচালনা করেন।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর বেতুয়া বাজার, কৈয়ারবিল ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদীর পয়েন্টে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিলেন একটি প্রভাবশালী চক্র।
এসব বালু উত্তোলন মেশিন বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়ার পরও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখেন বেশ কিছু বালু উত্তোলনকারী ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে লক্ষ্যারচর এলাকায় বালু পয়েন্ট থেকে ১টি মেশিন ও বেশকিছু পাইপ গুড়িয়ে দিয়ে ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অভিযানের ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিল।

এ অবস্থার কারণে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এনিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের তাগাদা জানানো হয়। এরপরও মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ না হাওয়ায় বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে বৃহস্পতিবার মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, অভিযানের সময় বালু পয়েন্ট থেকে ১টি মেশিন ও বেশকিছু পাইপ জব্দ করে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় বালু উত্তোলনে জড়িত অসাধু ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত দুইদিন (মঙ্গলবার ও বুধবার) মাতামুহুরী পয়েন্ট বেতুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এ ২টি মামলায় ১লক্ষ ২হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়৷ এছাড়াও সুরাজপুর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার দায়ে ১টি মামলায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়৷

পাঠকের মতামত: