কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

চট্টগ্রামে কিশোর-নারীসহ ছিনতাই চক্রের ১৩ সদস্য আটক

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই চক্রের ৫ কিশোর ও ২ নারীসহ ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতভর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মূলত ছিনতাইয়ের জন্য টার্গেট করা ব্যক্তিকে ভয় দেখাতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতো তারা।

রাকিব এবং নীপা সোমবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর সার্সন রোডে এক পথচারীকে রাস্তার উপর ফেলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। শুধু এটি নয়, গত ২ দিনে এভাবেই অন্তত ৫টি ছিনতাই করেছে তারা। এর মধ্যে ২ জন মুর্মূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাকিব বলেন, ‘ওদেরকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখাতাম। ভয় দিলে ওরা সব দিয়ে দিত। ওদেরকে বেশি চাপাচাপি বা জোর করতাম না। আর বেশি জোরাজোরি করলে একটু গুতাগুতি করতাম।’

নীপা বলেন, ‘ছেলেটা বেশি বাড়াবাড়ি করছিল, মোবাইল দিচ্ছিল না। পরে ছেলেটা শুয়ে পড়লে ও মোবাইল নিয়ে চলে আসছিল কিন্তু ছেলেটা ওকে ধরে ফেলছে তারপর ও ছেলেটাকে ছুরি মেরে দিয়েছে।’
অনেকটা অভিনব কৌশল অবলম্বন করে চক্রের সদস্যরা। স্বামী স্ত্রীও রয়েছে এই দলে। ছিনতাই কাজে বাধা পেলে ছুরিকাঘাত করে যেমন মানুষকে আহত করে, তেমনি ফাঁসিয়ে দেয় যৌন হয়রানির অভিযোগেও।
সিএমপি অতিরিক্ত উপ কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ‘তারা ওকে টার্গেট করে। তারপর সে সিএনজি থেকে নামে মেয়েটা গিয়ে ছেলেটাকে ধরে আর ছেলেটা ছুরি দেখায় যদি ওরা মোবাইল বা টাকা পয়সা দিয়ে দেয় তো ভালো নাহলে তারা ছুরিকাঘাত করে।
এদিকে, রাতের অভিযানে আটক হয়েছে আরো ৫ কিশোর ছিনতাইকারী। নগরীর বিভিন্ন বিপনিবিতানে নারী ক্রেতাদের কাছ থেকে মোবাইলসহ মালামাল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, নারীরা যখন ব্যাগ নিয়ে মার্কেটে আসে তখন পিছন থেকে তাদের ব্যাগ থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাই করে এই চক্রের ৫ সদস্যকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তারা যেকোন টার্গেটকে ফাঁকা জায়গায় পেলে প্রথমে ছুরির ভয় দেখায় এবং বাধার সমুখীন হলে তাকে রক্তাক্ত করে।
আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৩টি মোবাইল সেট এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ৫টি ছুরি এবং ৫টি কাটার।

পাঠকের মতামত: