কক্সবাজার, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১

এবার বিদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুয়ার খুলছে

মহামারি করোনাভাইরাসের জন্য বিশ্বের প্রায় সব দেশের সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মানুষের যাওয়া-আসা। দীর্ঘ দিন পর সেই অবস্থার পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, সবাই ফিরতে চাইছে কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যাত্রীরা প্রায় দেড় বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছে, টিকার পূর্ণ অর্থাৎ দুই ডোজ নেওয়া যে কোনো দেশের নাগরিক করোনার নেগেটিভ সনদ দেখিয়ে আগামী নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই খবর জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের করোনাভাইরাস মোকাবিলা বিষয়ক সমন্বয়কারী জেফরি জিয়েন্টস নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আগামী নভেম্বর থেকে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিদেশি নাগরিকদের ওই সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে হলে নিতে হবে পূর্ণ ডোজ টিকা।’

হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস বিষয়ক প্রধান জেফরি জিয়েন্টস এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, বিদেশি নাগরিকদের টিকা নেওয়ার প্রমাণ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার আগের তিন দিনের মধ্যে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়ার সনদও দেখাতে হবে। এছাড়া ঢোকার সময় তাদের কন্টাক্ট ট্রেস করা হবে।

জেফরি জিয়েন্টস আরও জানিয়েছেন, আমেরিকান নাগরিকদের যারা টিকা নেননি তাদেরও দেশে ফেরার একদিন আগে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়ার সনদ দেখাতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আবার তাদের করোনা পরীক্ষা হবে। তবে দুই ডোজ টিকা নেওয়া মার্কিনিদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে চাইলে নতুন নিয়মে টিকা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শুধু যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদিত টিকার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য কিনা, চীন বা রাশিয়ায় উৎপাদিত টিকা নিলে যাওয়া যাবে কিনা সেটা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেনি হোয়াইট হাউস। তবে জিয়েন্টস বলেছেন, এটা ঠিক করবে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি।

করোনার প্রকোপ শুরুর পর ২০২০ সালের মার্চে তৎকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলকে বাইডেনের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা উত্তেজনাপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের আবহে এমন দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো।

পাঠকের মতামত: