কক্সবাজার, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

মাদক কারবারি আব্দুর রহমান এখন কোটি টাকার বিনিময়ে বাজারের ইজারাদার

বিশেষ প্রতিনিদি:: 
কক্সবাজার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা ৫নং ওয়ার্ডের পাহাড় পাড়ার মোঃ জামাল এর ছেলে এক সময়ের মদ ব্যবসায়ী বর্তমানে ইয়াবা কারবারি আব্দুর রহমানের ইয়াবা বানিজ্য যেন দিনদিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেছে।পুরো জেলাতে জুড়ে রয়েছে তার মাদক সিন্ডিকেট।এলাকার বেকার যুবকদের বেকারত্বকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কৌশলে তাদের দিয়ে ইয়াবা পাচার করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। যেন আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়ার মতো। আর এই সব যুবকরা বিনা পূজিতে অধিক টাকার লোভে সরাসরি সহজ পন্থা ইয়াবা বানিজ্যের সাথে যোগ দিচ্ছে। ইয়াবা ব্যবসা করে বছরের শেষে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ সম্পদ ও গাড়ি বাড়ির মালিক বনে গেছে অনেকে। ফলে চরমভাবে ওই এলাকায় বেকার যুবকদের নব্য কোটিপতি’র সংখ্যা দৃশ্যমান।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমনই একজন নব্য কোটি পতির নাম উঠে এসেছে, যার নাম আব্দুর রহমান সে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের নাম্বার ওয়ান মোষ্ট ওয়ান্টেড ইয়াবা কারবারি খ্যাত।ইয়াবা আব্দুর রহমান এলাকায় যুবলীগ নেতা ও সিএনজি গাড়ির লাইন পরিচয়ে প্রশাসন ও মানুষের চোখে ধূলো দিয়ে সহজে তার ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।শূন্য থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া আব্দুর রহমান এর হাতে যেন আলাদীনের চেরাগ। তার রয়েছে নামে-বেনামে সম্পত্তি সহ রামু উপজেলায় ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে নেওয়া মেসার্স পছন্দ স্টোর নামক একটি দোকান এবং কয়েকটি সিএনজি গাড়ি। মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে  চলাফেরা করে কোটিপতি স্টাইলে।
সূত্রে পাওয়া খবর,রামু উপজেলা প্রশাসন থেকে কিছুদিন আগে পত্রিকায় উপজেলার সকল বাজারের দরপত্র দেওয়া হয়েছিল। সোমবার ৮ জুন ২০২০ ইংরেজি তারিখে রামু উপজেলা প্রশাসন হল রুমে সেই বাজার ইজারার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্রায় এক কোটি টাকা দিয়ে সেই নিলামে গর্জনিয়া বাজারের ইজারা নিয়েছেন আব্দুর রহমান।
গর্জনিয়া স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে বিশাল একটি ইয়াবা চালান আসার খবর পেয়ে স্হানীয় কিছু লোক সেই ইয়াবার চালান ছিনিয়ে নিয়েছিল,কিন্তু সেই সমালোচিত ইয়াবা ডন বড় মাপের নেতাদের মধ্যস্ততায় ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে সেই ইয়াবা উদ্ধার করে। একসময় সে মায়ানমার সীমান্তে বিজিবির হাতে মায়ানমারের নোটসহ আটক হয়েছিল।  অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,এক বছরের ব্যবধানে আব্দুর রহমান সিএনজি ড্রাইভার থেকে কোটিপতি, সে ৮ জুন ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে গর্জনিয়া বাজারের ইজারা নিয়েছেন, তার রয়েছে নামে-বেনামে সম্পত্তি, দামি মোটরসাইকেল, সিএনজি গাড়ি সহ রামু উপজেলায় প্রায় দশলাখ টাকার দোকান। চলাফেরা করেন রাজকীয় স্টাইলে, বন্ধুদের আড্ডায় বেপরোয়া টাকা খরচ করা এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ঈদের শপিং করে দেওয়া।
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানা সূত্রে পাওয়া, আব্দুর রহমান যখন বাংলা মদের ব্যবসা করতো তখন থানা পুলিশ তাকে বাংলা মদসহ আটক করে,এবং তার বিরুদ্ধে ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে। যার মামলা জি আর নং-৩৪/১৮।সে সময় তার এই বাংলা মদ ব্যবসায় সহযোগী ছিল,মোহাম্মদ আজিজ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ হোসেন প্রকাশ মাছন তারাও এই মামলার আসামী ছিল।
একসময় এই আব্দুর রহমান এর দিন কাটতো অভাব-অনটনে,যার সংসারে ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। বিগত ৫/৭ মাস আগেও যার পকেটে ছিলনা একশত টাকা। আজ ইয়াবার বদৌলতে তার কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা। বনে গেছেন অঢেল সম্পত্তির মালিক। চলাফেরা করেন রাজকীয় স্টাইলে,হঠাৎ তার আলিসান জীবনযাপন দেখে প্রতিবেশীদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তার এই সিন্ডিকেটে রয়েছে তার ভাই হাবিব সহ আরো অনেকে।যাদের মাধ্যমে দেশের আনাচকানাচে পৌঁছে দিচ্ছে বিশাল আকারে ইয়াবার চালান।মায়ানমারের এক ইয়াবা  ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আব্দুর রহমান এর ইয়াবার চালানগুলো সীমান্ত অতিক্রম করে তার হাতে পৌঁছে দেন তার আরেক সহযোগী নুরু।সে কৌশলে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবার চালান আব্দুর রহমান এর দেওয়া স্হানে এনে রাখে পরে আব্দুর রহমান বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবগুলো তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে তার গ্রাহকদের পৌঁছে দেন।
সূত্রে জানা যায়, এই আব্দুর রহমান সীমান্তে ইয়াবার চালান আনতে গিয়ে কয়েকবার বিজিবির হাতেও আটক হয়েছিল। তার এক সহযোগী ইয়াবাসহ বান্দরবান পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করতেছে।আব্দুর রহমান বর্তমানে বহু মাদক মামলার আসামি। তার এই ইয়াবা রাজ্যের এক মাত্র পথপ্রদর্শক খেলু মার্মা নামক এক ব্যক্তি। তার হাত ধরে এই অপরাধ জগতে পা রাখে ইয়াবা কারবারি আব্দুর রহমান।
এলাকায় তাঁর অপকর্মের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কেউ সাহস পায় না প্রতিবাদের। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন প্রকার হুমকিধামকি দেয়।তথ্যনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তাঁর অপকর্মে যোগান দাতা এক জনপ্রতিনিধি। তাঁর সাথে উপজেলার ক্ষমতাসীন এক সিনিয়র নেতার সাথে রয়েছে সখ্যতা। সে মাদকের এজাহার ভুক্ত আসামী হওয়া সত্ত্বেও কোন অদৃশ্য কারণে গ্রেফতার হচ্ছেনা। তাই কেউ প্রকাশ্যে মুখ না খুললে ও গোপনে তাকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও এলাকার সচেতনমহল।
মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আব্দুর রহমান এর কাছে এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে প্রতিবেদন না করে এক প্রকার আপোষের প্রস্তাব দেন তা আবার স্ব শরীরে অফিসে এসে।কিন্তু প্রতিবেদক তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সে বিভিন্ন নেতার প্রভাব দেখিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবলীগ নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,সে একজন খারাপ প্রকৃতির লোক, সে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার মাদকের ছোবলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে, এইসব ইয়াবা কারবারিদের আইনের আওতায় আনা না হলে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। তাই আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এব্যাপারে,কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ইসমাইল নোমান কাছে জানতে চাইলে,সে বিজিবির হাতে আটক হয়েছিল আমি তাকে এলাকার নাগরিক হিসেবে নিজ দায়িত্বে ছাড়িয়ে আনছিলাম কিন্তু তার কাছে মাদক পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। বিভিন্ন লোকমুখে শুনতেছি সে নাকি মাদক ব্যবসায় জড়িত।
এবিষয়ে এক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জানান, কিছুদিন পূর্বে আব্দুর রহমানকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়েছিল কিন্তু তল্লাশী করার পর তার কাছে মাদক পাওয়া যায়নি, কিন্তু সে একজন মাদক ব্যবসায়ী সেটা আমরা জানি,তাকে আমাদের নজরে রাখা হয়েছে। আমরা কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেবনা অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
রামু গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) আনিসুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে তার মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাচ্ছি, এবং তাকে আমাদের নজরদারিতে রেখেছি। মাদকের সাথে সম্পৃক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।সে যেই হোক আইনের আওতায় তাকে আনা হবে।

পাঠকের মতামত: