কক্সবাজার, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক মানব পাচারকারীরা ফের সক্রিয়, আটক ৩

উখিয়া ও টেকনাফে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট। রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক চিহ্নিত দালাল ও স্থানীয় পাচারকারীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এ সিন্ডিকেট। প্রলোভন দেখিয়ে মোট অংকের টাকার বিনিময় ক্যাম্পের নারী, শিশু ও পুরুষদের সাগর পথে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় পাচার করছে।

গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে মানব পাচারকারী সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হলেও সিন্ডিকেটের গডফাদাররা সবসময় আড়ালে থেকে যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে এ চক্রের তিন জন পাচারকারীকে আটক করেছে উখিয়া ৮ আর্মড পুলিশ। এ সময় তাদের কবল হতে মিয়ানমারে জিম্মি থাকার ১২ দিন পর কেফায়েত উল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার হতে উদ্ধার করেছে। সে উখিয়ার ক্যাম্প-১৯ এর বাসিন্দা আটক পাচারকারীরা হলো, উখিয়া বালুখালী ক্যাম্পে বাসিন্দা এনাম উল্লাহ  টেকনাফের নতুন পল্লান পাড়ার কলিম উল্লাহ ও  লম্বরী গ্রামের তারিকুল ইসলাম।
উখিয়াস্থ ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস্ অ্যান্ড মিডিয়া) মো. ফারুক আহমেদ জানান, গত ৮ জুলাই ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কেফায়েত উল্লাহ (২৪) ও হামিদ হোসেন (২৫) নামে দুই ব্যক্তিকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় মানবপাচারকারীরা। পরে সেখান থেকে হামিদ হোসেন কৌশলে পালিয়ে এলেও কেফায়েত উল্লাহকে পাঠিয়ে দেয়া হয় মিয়ানমারস্থ পাচারকারীদের কাছে। সেখানে তাকে আটক করে মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কও দাবি করা হয়। ঘটনা জানার পর আমরা উখিয়া ও টেকনাফের সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করি। এরপর একে একে আর্ন্তজাতিক মানব পাচারকারীদের আটক করা হয়। তারপর তাদের মাধ্যমে মিয়ানমারে পাচার জিম্মি ওই রোহিঙ্গা যুবককে উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

এপিবিএনর কাছে আটকরা স্বীকার করেছে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয়দের মিয়ানমার-মালয়েশিয়ায় পাচার করে আসছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি ‘আরসা’ সন্ত্রাসীরা অর্থ উর্পাজন করতে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভবনা রয়েছে। তবুও বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা দরকার। এ ঘটনায় আটক মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

পাঠকের মতামত: