কক্সবাজার, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

ডিসি সাহেবের বলী খেলায় চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরীফ

শাহেদ হোছাইন মুবিন :

কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ডিসি সাহেবের বলী খেলার ৬৯তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা ফরিদ। তিনি স্থানীয়দের কাছে “বাঘা শরীফ” নামে পরিচিত। রানার্স আপ হয়েছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ছনখোলা পাড়ার শাহেদ হোসেন কালু বলি।

 

শনিবার কক্সবাজারের বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে (১১ মে ২৪) বিকেল সাড়ে ৫টায় বলীখেলার ফাইনালে মুখোমুখি হন দুইজন। ৪ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর শরীফের কাছে হার মানেন কালো।

 

৪ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর প্রথম হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাঘা শরীফ। এর আগে দ্বিতীয় মেডেল টানা ১০ বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মহেশখালীর মোহাম্মদ হোসেন বলি। তিনি একই উপজেলার লালু বলিকে পরাজিত করেন। তৃতীয় মেডেল চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন মহেশখালীরই মোহাম্মদ শফি উল্লাহ বলি। তিনি পরাজিত করেন আমিন বলিকে।

বাঘা শরীফ ১৬ দিন আগে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত জব্বারের বলি খেলাতেও চ্যাম্পিয়ন হন। এ সময় চ্যাম্পিয়ন “বাঘা শরীফ” নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, “গতবারে ডিসি সাহেবের বলি খেলায় যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, এবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি যা আমাকে খুবই আনন্দিত করেছে। শক্তি যতদিন আছে ততদিন বলী খেলায় অংশ গ্রহণ করবো।

শ্রীম্প হ্যাচারী এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(সেব) এর পৃষ্ঠপোষকতায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে বলীখেলার দুই দিনে তিনটি ক্যাটাগরিতে জেলার বিভিন্ন স্থানের ৪ শতাধিক বলি অংশ নেন।

 

এবার বলীখেলায় ১ম মেডেলে চ্যাম্পিয়ন ২৫ হাজার টাকা, রানার আপ ১৫ হাজার টাকা। ২য় মেডেলে চ্যাম্পিয়ন ১২ হাজার টাকা, রানার আপ ৮ হাজার টাকা এবং ৩য় মেডেলে চ্যাম্পিয়ন ১০ হাজার টাকা ও রানার আপকে ৭ হাজার টাকা উপকৃত করা হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ তোফায়েল ইসলাম। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গ্রাম্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। যারা খেলছেন, তাদের যত্ন করা আমাদের উচিত। গ্রামীন খেলাধুলাকে আরো প্রসার করতে উচ্চ পর্যায়ে সুপারিশ থাকবে।

 

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জাহিদ ইকবাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) বিভীষণ কান্তি দাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা আইসিটি) তাপ্তি চাকমা , কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন ও বলী খেলা উপ-কমিটির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন কবির প্রমুখ।

বলীখেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রপি ও নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

 

উল্লেখ্য: পর্যটন নগরী কক্সবাজারের দীর্ঘ সময়কালের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্ণিল সংস্কৃতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় ১৯৫৬ সালে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাসে মহকুমা স্টেডিয়ামে ১৯৫৬ সালে এ অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের জন্য এস.ডি.ও সাহেবের বলীখেলা নামে প্রথম বারের মতো বলীখেলা শুরু করা হয়। বাঙালীর লোকজ উৎসব “বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা” তখন থেকে পরিণত হয় এই জনপদের অধিবাসীদের প্রাণের উৎসবে। ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ কক্সবাজার মহকুমা জেলায় উন্নীত হওয়ায় এস.ডি.ও সাহেবের বলীখেলার নতুন নামকরণ হয় ডি.সি. সাহেবের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা।

পাঠকের মতামত: