কক্সবাজার, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

দেশে প্রথম সামুদ্রিক কোরাল মাছের সফল কৃত্রিম প্রজনন

দেশে প্রথমবারের মতো সামুদ্রিক কোরালের কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন মৎস্য গবেষক মোদাব্বির আহমেদ খন্দকার পলাশ। টানা ২০ মাস ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচের ফসল এ গবেষণা। এর ফলে এখন থেকে হ্যাচারীতে উৎপাদিত পোনা লবণাক্ত ও মিষ্টি পানিতে চাষ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মৎস্য চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মৎস্য গবেষক মোদাব্বির আহমেদ খন্দকার পলাশ; নিবিড়ভাবে সামুদ্রিক কোরাল কৃত্রিম প্রজননের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ২০ মাস ধরে। এর মাঝে তিনি ভিয়েতনাম, ভারত ও শ্রীলঙ্কার কোরাল হ্যাচারি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাও নিয়েছেন। অবশেষে সেই কাঙ্খিত সফলতাটি আসে ৪ নভেম্বর। হ্যাচারির স্পনিং ট্যাংকে একটি সামুদ্রিক মা কোরাল ডিম ছাড়ে ১০ লাখ। সেখান থেকে জন্ম নেয় ৬ লাখ রেনু পোনা। যা বর্তমানে হ্যাচারিতে রেনু পোনাগুলো প্রতিপালন করা হচ্ছে। দীর্ঘ গবেষণার পর সফলতা পেয়ে দারুণ খুশি এই মৎস্য গবেষক।
গ্রীনহাউজ মেরিকালচার হ্যাচারির প্রধান গবেষক মোদাব্বির আহমেদ খন্দকার পলাশ বলেন, দীর্ঘ গবেষণার পর গত ৪ নভেম্বর কোরালের কৃত্রিম প্রজনন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৪ নভেম্বর দিবাগত রাতে হ্যাচারির স্পনিং ট্যাংকে একটি মা কোরাল ১০ লাখ ডিম ছাড়ে এবং সেখান থেকে ৬ লাখ রেণু পোনা জন্ম নেয়। এসব রেণু পোনা বর্তমানে হ্যাচারিতে প্রতিপালন করা হচ্ছে। রেণু বড় হলে ক্রমান্বয়ে সেগুলো নার্সারি পুকুরে ও চাষাবাদ পুকুরে চাষ করা হবে। এই মাছ সমুদ্রের লোনা পানির খাঁচা, উপকূলের স্বল্প লোনা পানির পুকুর ও মিঠা পানির পুকুরে চাষ করা যাবে।
সরেজমিনে হ্যাচারিতে গিয়ে ও গবেষণায় নিয়োজিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩ কেজি থেকে ১০ কেজি আকারের সামুদ্রিক কোরাল মাছ সংগ্রহ করে প্রথমে সঙ্গরোধ ইউনিটে রাখা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও জীবানুমুক্তকরণের পর প্রজননে সক্ষম মাছকে ব্রুডস্টক ট্যাংক স্থানান্তরিত করা হয়। পরিবেশ ও প্রতিবেশ অনুকূলে হলে পুরুষ মাছ থেকে মেয়ে মাছে রুপান্তরিত হয়। একই সঙ্গে পরিবর্তন করতে হয় খাদ্যভাষের। প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদানের মাধ্যমে ডিম ধারণের উপযোগী করে মেয়ে মাছ ও কিছু পুরুষ মাছকে পূর্ণাঙ্গ  প্রজননক্ষম করার জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন প্রদান করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে ৬ মাস।

“তারপর সামুদ্রিক কোরালকে ডিমপাড়া ট্যাংকে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় হরমোন প্রদানের মাধ্যমে ৩৬-৪৮ ঘন্টার মধ্যে স্পুনিংয়ের জন্য উপযুক্ত করা হয়। এরপর একটি মাঝারি মা কোরাল ১৫ থেকে ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। কোরাল অসম্ভব সুস্বাদু ও বাণিজ্যিকভাবে খুবই মূল্যবান একটি মাছ। যা পৃথিবীর অনেকদেশে হ্যাচারী স্থাপনের মাধ্যমে এ মাছ চাষে সফলতা অর্জন করেছে। ঐসব দেশের কাতারে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ায় জন্যই এই উদ্যোগ”
গবেষক মোদাব্বির আহমেদ খন্দকার পলাশ বলেন, গ্রিন হাউজ মেরিকালচারের এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ও বিশ্বব্যাংক এর অর্থায়েন বাস্তবায়নাধীন ‘টেকসই উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্প’ থেকে গবেষণার ক্ষেত্রে আংশিক সহায়তা করা হয়। এই কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তিনি।
কক্সবাজারস্থ ‘‘গ্রীনহাউজ মেরিকালচার’’ এর স্বত্ত্বাধিকারি তারিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং প্রকল্পের প্রধান গবেষক মোদাব্বির আহমেদ খন্দকারের নেতৃত্বে এ সফলতা অর্জিত হয়। আর গবেষণায় তার সঙ্গে ছিলেন ৭ সদস্য। তারাও সফলতা অর্জিত হওয়ায় দারুণ খুশি।
গ্রীনহাউজ মেরিকালচারের ব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ২০ মাসের গবেষণা শেষে এই কৃত্রিম প্রজনন তৈরি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকাসহ অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশও কোরাল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের রপ্তানিখাতে একটি নতুন পন্য যোগ করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে সোনাদিয়া দ্বীপে গিয়ে প্রাকৃতিক নিয়মে আমরা পুরুষ কোরাল থেকে বাচ্চা প্রজননের ব্যবস্থা করেছিলাম। কৃত্রিম উপায়ে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রজনন করেছে কি-না তা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে রেকর্ড নেই। তবে ১৮ নভেম্বরের পরে এক সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সামুদ্রিক কোরাল থেকে কৃত্রিম প্রজননের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা চলছে।’
মৎস্য গবেষক মোদাব্বির আহমেদ খন্দকার পলাশ বলেন, কোরাল অসম্ভব সুস্বাদু ও বাণিজ্যিকভাবে খুবই মূল্যবান একটি মাছ। যা পৃথিবীর অনেকদেশে হ্যাচারী স্থাপনের মাধ্যমে এ মাছ চাষ সফলতা অর্জন করেছে। ঐসব দেশের কাতারে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ায় জন্য আমাদের এই উদ্যোগ। হ্যাচারীতে উৎপাদিত পোনা দ্বারা লবণাক্ত ও মিষ্টি উভয় পানিতে চাষ করা সম্ভব, বিধায় বাংলাদেশের মৎস্য চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। হ্যাচারীতে উৎপাদিত পোনা সম্পূর্ণভাবে সম্পূরক খাদ্য ব্যবহার করে চাষ করা যাবে ফলে কোরাল উৎপাদন বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত কোরালের পোনা জীবন্ত খাদ্য ছাড়া চাষাবাদ সম্ভব নয় বলে সফলতা লাভ করা যায় না। জনপ্রিয় এই মাছ এতদিন শুধু প্রাকৃতিক উৎসের উপর নির্ভর ছিল। কিন্তুু বর্তমানে হ্যাচারীতে পোনা প্রজনন শুরু হওয়ায় দেশের সমগ্র অঞ্চলে ব্যপকহারে পোনার চাহিদা মিটাবে।
উৎপাদন প্রক্রিয়া :
প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আকারের ট্যাংক তৈরি, আধুনিক পানি শোধন ব্যবস্থাপনা, রাস স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজের মাধ্যমে হ্যাচারীকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর কোরাল প্রজননে সক্ষম ৩ কেজি থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত আকারের মাছ প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করে প্রথমে সঙ্গরোধ ইউনিটে রাখা  হয়। এখানে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও জীবানুমুক্তকরণের পর প্রজননে সক্ষম মাছকে ব্রুডস্টক ট্যাংক স্থানান্তরিত করা হয়।
“কোরাল মাছের একটি বেশিষ্ট্য হচ্ছে তারা তাদের জীবনচক্রের প্রথম ২-৩ বৎসর (৫ কেজি পর্যন্ত) সকল মাছ পুরুষ মাছ  হয়ে থাকে। পরবর্তীতে পরিবেশ ও প্রতিবেশ অনুকূলে হলে তারা পুরুষ মাছ থেকে মেয়ে মাছে রুপান্তরিত হয়। এরপর সফলভাবে ব্রুড মাছের লিঙ্গ পরিবর্তনসহ তাদের খাদ্যভাষের যথাযথ পরিবর্তন করা হয়। কারণ কোরাল মাছ মূলত জ

পাঠকের মতামত: