কক্সবাজার, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

প্লাস্টিকের বোতলে পানি পানে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

পানি পান করার জন্য ডাইনিং টেবিলে সাজানো প্লাস্টিকের জগ, অতিথি আপ্যায়নের জন্য এগিয়ে দিচ্ছি প্লাস্টিকের গ্লাসে শরবত, বাইরে প্লাস্টিকের বোতলে পান করছি কোমল পানীয়। ভরদুপুরে রাস্তায় পানির তৃষ্ণা মেটাচ্ছে দোকানে থাকা প্লাস্টিকের পানির বোতল। অফিসের মধ্যাহ্নভোজে খাবারের সঙ্গে বেছে নিচ্ছি প্লাস্টিকের পানির বোতলকে।

কখনও কি প্লাস্টিক খেয়ে দেখেছেন? প্রশ্নটি শুনে হাসি পেলেও, বিষয়টি মোটেও হাস্যকর নয়। স্বেচ্ছায় না হলেও, বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে অধিকাংশ মানুষ কখনও না কখনও খেয়ে ফেলেছেন প্লাস্টিক। আমরা সবাই জানি, বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু আমরা কী কখনো ভেবেছি, প্লাস্টিকের বোতলে পানি খেলে শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে?

প্লাস্টিক স্বাস্থ্যের জন্য ও পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর। তারপরও এর ব্যবহার দিন দিনই বাড়ছে। একদিকে অধিক মুনাফার জন্য ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিক পণ্যের বাজার প্রসারিত করছে, অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম দামে সহজে হাতের নাগালে পাওয়ায় সর্বস্তরের মানুষ তা প্রয়োজন মতো কিনছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, এর বিরূপ প্রভাবে মানবদেহে ক্যানসার, অ্যাজমা, অটিজম, হরমোনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগ সৃষ্টি হয়।

নিউকাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রত্যেক সপ্তাহেই নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন খাবার ও পানীয়’র সঙ্গে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলেন। তবে সবচেয়ে বেশি পানীয় জলের সঙ্গে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলেন। প্লাস্টিক যে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, তা তো সবাই আমরা জানি। তাও অভ্যসে পরিণত হওয়ায় ও সহজলভ্যের কারণে এর ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে পারছিনা। তবে প্রতি সপ্তাহে এত পরিমাণ প্লাস্টিক শরীরে গিয়ে কী পরিমাণ ক্ষতি করছে, কেউ কী ধারণা করতে পারেন?

প্লাস্টিক যেমন নানা প্রক্রিয়ায় শরীরে প্রবেশ করে, তেমনি তা শরীর থেকে বের করার প্রক্রিয়া-ও রয়েছে। যারা নিয়মিত বোতলজাত পানি কিনছেন, তাদের শরীরে পানির সঙ্গে প্লাস্টিক প্রবেশের পাশাপাশি সে প্লাস্টিকের অনেকটাই ঘামের সঙ্গে ও বর্জ্য পদার্থের সঙ্গে রোজ বের হয়ে যাচ্ছে। ফলে সামান্য পরিমাণ প্লাস্টিক গেলেই যে তা শরীরে থেকে যাচ্ছে, বিষয়টা এমন নয়।

তাই বলে কী প্লাস্টিকের কোনো ক্ষতি নেই। তেমন কিন্তু নয়। নিয়মিত প্লাস্টিক যদি শরীরে প্রবেশ করে, তার প্রভাব নানাভাবে পড়তে পারে। পুরুষদের মধ্যে দেখা দিতে পারে বন্ধ্যাত্বের সমস্যাও।

প্লাস্টিক শুধু রাসায়নিকেই ভরা নয়, এগুলো ফ্লোরাইড, আর্সেনিক ও অ্যালুমিনিয়াম নির্গত করে, যা মানব শরীরের জন্য বিষাক্ত। প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়ার অর্থ ধীরে ধীরে মৃত্যুঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাওয়া।

প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্লাস্টিকে রয়েছে বাইফেনিল জাতীয় রাসায়নিক, যা ডায়াবেটিসও উর্বরতায় সমস্যা সৃষ্টিকারী।

প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, শত বছরেরও বেশি সময় লাগে প্লাস্টিকের ক্ষয়প্রাপ্ত হতে। ফলে প্লাস্টিকের জিনিস ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। যতটা সম্ভব মাটির তৈরি বোতল, প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি পণ্য ব্যবহার করতে হবে, এটি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত।

লেখক: শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী।

পাঠকের মতামত: