কক্সবাজার, রোববার, ২২ নভেম্বর ২০২০

কেন গুলি এখনও তা স্পষ্ট নয়

সমকাল ::
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গতকাল বুধবার কক্সবাজারের আদালতে এপিবিএনের সদস্য কনস্টেবল মামুন আব্দুল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনহার মামলায় এই প্রথম কেউ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন। তবে কেন সিনহাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা এটা পরিস্কারভাবে জানার চেষ্টা করছেন। পুরো ঘটনার তদন্ত নির্ভুলভাবে সম্পন্নের জন্য র‌্যাবের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদারক করা হচ্ছে। তদন্ত কাজের সার্বিক বিষয় দেখভাল ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন র‌্যাব মহাপরিচালক।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অহেতুক বিতর্ক এড়াতে সজাগ রয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। এ ঘটনাকে ঘিরে যাতে কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। এদিকে এ ঘটনায় করা মামলায় রিমান্ডে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে দফায় দফায় মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গুলির কারণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও দেননি লিয়াকত। তিনি একেক সময় একেক কথা বলছেন। একবার বলছেন, ভয় পেয়েই গুলি ছোড়েন। আরেকবার বলেন, তার মনে হয়েছে অপর পাশ থেকে এক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। আবার বলছেন, মনে হয়েছে যে কোনো সময় তাদের ওপর গুলি করা হতে পারে। এটাও বলেছেন, ডাকাতের কাছে অস্ত্র থাকতে পারে- এমন বিশ্বাস ছিল। এও বলছেন, অস্ত্র তার দিকে তাক করা হয়েছিল। পুরো ঘটনাটি নিয়ে তার বোঝার ভুল ছিল বলে দাবি করেন লিয়াকত। এমনও বলছেন, এজাহারে যে বক্তব্য রয়েছে সেটাই তার কথা।
তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, গুলির করার প্রেক্ষাপট তারা জানার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি পরিকল্পিত নাকি তাৎক্ষণিক তা নিখুঁতভাবে জানা হবে। পরিকল্পিত না হলে কেন ৪ রাউন্ড গুলি করা হয়েছিল তাও বের করা হবে। আসামি ছাড়াও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা।

অপর একটি সূত্র জানায়, সিনহা ও তার সঙ্গীদের কাছ থেকে পাওয়া আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বের করা হবে তারা কী কী ধরনের কাজ করেছেন। তার কাজের জন্য কেউ তাদের টার্গেট করতে পারেন কিনা। এ ছাড়া পুলিশের মামলার তিন সাক্ষীর কাছে জানতে চাওয়া হবে- কেন এলাকাবাসী নিষেধ করার পরও মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত ডাকাত বলে মাইকিং করা হয়েছিল।
সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত গুলির ঘটনায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ ও বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির প্রধান পরিদর্শক লিয়াকত আলীর সঙ্গে পূর্বের কোনো সম্পর্কের ব্যাপারে সন্দেহাতীত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এমন কী ঘটেছে যে ১-২ মিনিটের মধ্যে গুলি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন লিয়াকত। ঘটনা নিয়ে প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দ দুলালের বক্তব্যে অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থলে তাদের নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মামলার এজাহারে পুলিশ দাবি করেছিল, মেজর পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি গুলি করতে উদ্যত হলে ৪ রাউন্ড গুলি করেন লিয়াকত।

এ ছাড়া সিনহাকে গুলি করার ঘটনাটি তাৎক্ষণিক নাকি পরিকল্পিত ছিল- এর উত্তর পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কমিটি সুনির্দিষ্ট মতামত তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরবে। ৩১ আগস্টের মধ্যে সিনহার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তবে তার আগে প্রদীপ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কমিটির সদস্যরা। এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি। সিনহার ঘটনায় করা মামলায় ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দ দুলাল রক্ষিতকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব। তাদের চার দিনের রিমান্ড শেষ হবে শুক্রবার।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। এই ঘটনায় ৫ আগস্ট তার বোন শাহরিয়া শারমিন ফেরদৌস বাদী হয়ে ওসি প্রদীপ দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দ দুলাল রক্ষিতসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে র‌্যাবকে।

পাঠকের মতামত: