কক্সবাজার, রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

প্রার্থিত প্রীতি : কবি রফিকুল ইসলাম রাইসুল

দেশলাই কাঠির মতো পুড়ে যাওয়া

ঘোলাটে চোখে স্বপ্নকে কিনে,
অন্ধকার পরাজিত করা
আকাশ ছোঁয়া চাঁদের আলোর মতো পথকে চিনে,
সব ব্যর্থতা মুছে,
যদি জীবনকে জীবনের বুক-চিরে
নবীন কিশোরের মতো
জীবন-যৌবনে ফিরিয়ে নেয়া যেতো!!

তবেই আমার স্বকীয় সংবিধান হতো,
বুমেরাং লিখা দিয়ে তরুণ-তরুণী ট্যানিক এসিডে ঝলসে গিয়ে তুমুল আড্ডা জমাতো,
রাস্তার পাশে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা
অভিমানী প্রেমিকার হাতে সান্ত্বনা হিসেবে
আমার কবিতা গুঁজে দিতো।

এসবের কিচ্ছুই হলো না আমার।
দু-কাঁধে আল্লার ফেরেশতা লিখছেন নিয়মিত,
কখন আমি কি করছি?
কোথায় গিয়ে কিভাবে থামছি?
লিখছেন তো সবই।

আমিও তো মানুষ,
মানুষের ভেতরে গুমোট ধরা শুদ্ধতম মানুষ।
মেঘের কূলে আচমকা লুকিয়ে যাওয়া ফানুস।

উচ্চবর্গীয় সব দাম্ভিকতা বুঝো,
মানুষ বুঝো কিন্তু আমায় বুঝো না।
একটি তপ্ত সিগারেট পুড়ে ছারখার করতে পারো,
রাস্তায় নুয়ে পড়া শিমুল ফুলকে কুড়িয়ে নিয়ে যত্ন করে খোঁপায় গেঁথে নিতে পারো।
সদ্য ভোর হওয়া শিশিরে পা ভিজিয়ে
একটি সকালকে স্বাগত জানাতে পারো,
কেবলমাত্র আমায় বুঝো না।

আমিও মানুষ!
আমার তো অধিকার আছে,
কৃপা করে আমাকে একটু বুঝো,
আগলে গেলে নিয়ম করে খুঁজো।

আমার স্নায়ুতে মুখর স্লোগানে,
সভ্যতার মানচিত্রে,
তুমুল সত্যের ভিড়ে,
শান্ত শীতল পৃথিবীতে,
আমার অস্তিত্ব টিকে থাকুক,
বিপ্লবে সংগ্রামে কিংবা ভ্রম কবিতার পঙক্তি হয়ে।
নইতো শুদ্ধ নতজানু প্রেমের উপাখ্যানে।
আমায় মনে রেখো,
শতবারে কাঙ্ক্ষিত অজুহাতে,
তোমাদের চারণভূমে
আমি ভীষণভাবে মনে পড়ে যাই যাতে।

পাঠকের মতামত: