কক্সবাজার, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২

ফেসবুকের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের মামলা

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ফেসবুক একটা রোবটের মতো আচরণ করে যার একতাই মাত্র উদ্দেশ্য; বিস্তার লাভ করা।’ মামলায় আরও বলা হয় যে ফেসবুকের অ্যালগরিদম ভুল তথ্য ও মৌলবাদী চিন্তাধারাকে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে যা অনেক ক্ষেত্রেই সহিংসতার জন্ম দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তাদের অভিযোগ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ঘৃণা ও ভুল তথ্য ছড়ানো থামাতে পারেনি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আদালতে এ মামলা করেছেন।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ফেসবুক একটা রোবটের মতো আচরণ করে যার একতাই মাত্র উদ্দেশ্য; বিস্তার লাভ করা।’

মামলায় আরও বলা হয় যে ফেসবুকের অ্যালগরিদম ভুল তথ্য ও মৌলবাদী চিন্তাধারাকে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে যা অনেক ক্ষেত্রেই সহিংসতার জন্ম দেয়।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অনস্বীকার্য বাস্তবতা হচ্ছে যে ঘৃণা, বিভাজন ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে ফেসবুক যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে তা হাজারো রোহিঙ্গার জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।’

মুসলিম প্রধান রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ব্যাপক বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছে। দেশটিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করা সত্ত্বেও তাদেরকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ওই বছর প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা মারা পড়েন সেনাবাহিনীর হাতে। অনেকেই এখনও মিয়ানমারে আছেন ও প্রতিনিয়ত সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য বিস্তার রোধে পর্যাপ্ত ভূমিকা নিতে না পারার অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে এমনটা জানানোর পরও ফেসবুক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

আমেরিকান ডেটা ইঞ্জিনিয়ার ও হুইসলব্লোয়ার ফ্রান্সিস হাউগেন গত অক্টোবরে দেশটির কনগ্রেসকে বলেন, ‘কয়েকটি দেশে ফেসবুক জাতিগত সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে।’

আমেরিকার আইন অনুযায়ী ফেসবুক এর ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কন্টেন্টের দায় থেকে মুক্ত।

রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে যে মামলাটির যে সকল জায়গায় সম্ভব সেটিকে যেন মিয়ানমারের আইনের আলোকে আনা হয়। সেখানে এধরনের কোনো সুরক্ষা বা দায়মুক্তি আইন নেই।

মামলা নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফেসবুক। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাস ও নির্বাচন সংক্রান্ত ভুল তথ্য বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নানা মহল থেকে প্রতিষ্ঠানটি চাপের মুখে রয়েছে।

মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের স্রোত বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরবর্তী বেশ কয়েক দিনে ৫ লাখ ৮২ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্নভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রবেশ করে বলে ইএনএইচসিআরের এক হিসাবে বলা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ দফায় আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০১৭ সালেই বাংলাদেশে আসে ৮ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আসা আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ার বালুখালী ও টেকনাফের উনচিপ্রং ও শাপলাপুর ক্যাম্পে রয়েছে। কিছু রোহিঙ্গাকে সরকার নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করেছে।

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করে বাংলাদেশ। কিন্তু গত চার বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। দেশটি টালবাহানা করে প্রত্যাবাসন শুরুতে দেরি করছে।

পাঠকের মতামত: