কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪

করোনার প্রভাব হজে : পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ২৫ হাজার নিবন্ধন ৩৮৮৭

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত আফজাল হোসেন। চলতি বছর বাবা-মাকে হজে পাঠানোর জন্য জনপ্রতি ২৮ হাজার টাকা করে ৫৬ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক নিবন্ধন করিয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২ মার্চ থেকে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত।

আফজাল হোসেন যে বেসরকারি হজ এজেন্সি থেকে প্রাক নিবন্ধন করিয়েছেন তারা নিবন্ধনের টাকা জমা দেয়ার জন্য মোবাইলফোনে তাগাদা দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস আতঙ্কে আফজাল হোসেন বাবা-মায়ের নিবন্ধনবাবদ তিন লক্ষাধিক টাকা জমা দিতে সাহস পাচ্ছেন না। তিনি পরিচিতিজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা জমা দেয়া ঠিক হবে কি-না, এবার হজ হবে কি-না, টাকা জমা দিলে ফেরত পাবেন কি-না ইত্যাদি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন।

শুধু আফজাল হোসেনই নন, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আতঙ্কে চলতি বছর হজ গমনেচ্ছু ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের অধিকাংশেই নিবন্ধনের টাকা জমা দিতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সম্প্রতি তার মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিবন্ধনের জন্য হজ গমনেচ্ছেুদের প্রতি আহ্বান ও অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, নিবন্ধনের টাকা জমা দেয়ার পর কোনো কারণে যেতে না পারলে টাকা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) নিবন্ধনের টাকা জমা নেয়ার জন্য নির্বাচিত বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নিবন্ধনের জন্য জমাকৃত টাকা ব্যাংকেই জমা রাখা এবং হজ এজেন্সিগুলো যেন ওই টাকা উত্তোলন করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর এতো প্রতিশ্রুতি প্রদান করা সত্ত্বেও হজ গমনেচ্ছুদের আতঙ্ক কাটছে না।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জন পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে। নিবন্ধনের বাকি মাত্র ৫ দিন।

গত ১১ দিনে হজ গমনেচ্ছু ২৫ হাজার হজযাত্রী তাদের পাসপোর্ট জমা দিলেও করোনা আতঙ্কে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৯৭৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে মাত্র ২ হাজার ৯১০ জনসহ সর্বমোট ৩ হাজার ৮৮৭ জন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, করোনা আতঙ্কে মানুষ নিবন্ধনের টাকা জমা না দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সম্প্রতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, হজ গমনেচ্ছুরা দ্রুত নিবন্ধন না করলে পরবর্তীতে তাদের হজে গমন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কারণ হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে দুই মাস সময় প্রয়োজন। আগামী মাসেই রমজান শুরু হচ্ছে। জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। তাই দ্রুত নিবন্ধন করা জরুরি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হজ গমনেচ্ছু ব্যক্তিরা আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের রশিদের মাধ্যম করবেন। নিবন্ধনের পর কোনো কারণে হজে যাওয়া না হলে শুধুমাত্র রশিদের মাধ্যমে প্রদেয় টাকার দায়িত্বই ধর্ম মন্ত্রণালয় গ্রহণ করবে। কিন্তু ব্যাংক রশিদ ছাড়া অন্য কোনো লেনদেনের টাকা ফেরত প্রদানের দায়িত্ব মন্ত্রণালয় নেবে না বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হজ গমনেচ্ছু মুসলমানদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পুনরায় তাগিদ দিয়ে বলেছেন, যে দেশ থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি সেই চীনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশেও মাত্র তিনজন রোগী পাওয়া গেছে। তারা সুস্থ রয়েছেন।

তিনি মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিবন্ধন দ্রুত করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, সময়মতো টাকা জমা না দিলে ও পরবর্তীতে অবস্থার উন্নতি হলে তখন ইচ্ছা করলেও একজন হজে যেতে পারবেন না। কারণ একজন হাজির জন্য সৌদি আরবে বাড়িভাড়া, যানবাহন, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় আগাম থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার জন্য আগাম অর্থ পরিশোধও সেই দেশের মুয়াল্লিমের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়।

পাঠকের মতামত: